নিজস্ব প্রতিবেদক
চুয়াডাঙ্গা কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে দাখিল (এসএসসি সমমান) ভুল প্রশ্নপত্রে ২২ থেকে ২৫ মিনিট পরীক্ষা নেয়ার পর অতিরিক্ত সময় না দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কেন্দ্র সচিব ও ট্যাগ অফিসারকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এবং তাদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হচ্ছে।
জানা যায়, মঙ্গলবার দাখিল পরীক্ষার প্রথম দিনে কুরআন মাজিদ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী ১০০ নম্বরের এই পরীক্ষায় ৬০ নম্বর লিখিত এবং ৪০ নম্বর বহুনির্বাচনি প্রশ্ন থাকার কথা ছিল। যা মূল খাতাতেই উত্তর দেয়ার কথা। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, পরীক্ষার শুরুতে ৩০ নম্বরের বহুনির্বাচনি প্রশ্নপত্র ও আলাদা ওএমআর শিট বিতরণ করা হয়।
পরীক্ষা শুরুর প্রায় ২৫ মিনিট পর কেন্দ্র সচিব কক্ষ পরিদর্শন করে প্রশ্নপত্র ভুল হয়েছে বলে জানান এবং পরে সময় সমন্বয় করা হবে বলে আশ্বাস দেন। কিন্তু পরীক্ষা শেষে মাত্র ৪ থেকে ৫ মিনিট অতিরিক্ত সময় দিয়ে খাতা নিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।
একাধিক পরীক্ষার্থী জানান, শুরুতেই তারা দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কাছে প্রশ্নপত্রের অসঙ্গতির বিষয়টি তুলে ধরলেও তা গুরুত্ব পায়নি। পরে ভুল স্বীকার করা হলেও সময়ের সঠিক সমন্বয় করা হয়নি। এতে তাদের প্রস্তুতি ও পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে দাবি করেন তারা।
একজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভুল প্রশ্নে ২৫ মিনিট নষ্ট হওয়ার পরও পর্যাপ্ত সময় না দেওয়া শিক্ষার্থীদের প্রতি অন্যায়। এতে তাদের পরীক্ষার ফলাফলে প্রভাব পড়তে পারে।
এ বিষয়ে কেন্দ্র সচিব ও মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জান্নাত আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনাটিকে ‘ছোট বিষয়’ বলে মন্তব্য করেন এবং বিস্তারিত বলতে অনীহা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) বিএম তারিক-উজ-জামান জানান, প্রথমে বিষয়টি তাদের জানা ছিল না। পরে অবগত হওয়ার পর জেলা প্রশাসক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, কেন্দ্র সচিব ও ট্যাগ অফিসারকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হচ্ছে।