ঢাকা , শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬ , ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শ্রীবরদীতে সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগে পাঁচ গ্রামের মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৪-২৩ ১১:১৩:২৩
শ্রীবরদীতে সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগে পাঁচ গ্রামের মানুষ শ্রীবরদীতে সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগে পাঁচ গ্রামের মানুষ
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তবর্তী রাণীশিমুল ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে সোমেশ্বরী নদী। স্বাধীনতার পর থেকেই এ নদীতে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন এসব গ্রামের লোকজন। কিন্তু স্বাধীনতার ৫৪ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে শুধুই আশ্বাসই পেয়ে আসছেন তারা। বিশেষ করে নির্বাচনের সময় প্রার্থীদের কাছেও পেয়েছেন শুধুই আশ্বাস, বাস্তবে এখনো সেতু নির্মাণ করা হয়নি। এতে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন পাঁচ গ্রামের মানুষ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সোমেশ্বরী নদীটির উত্তর প্রান্তে রয়েছে ভারতের সীমানা। নদীটি উপজেলার গারো পাহাড়ের খাড়ামোরা, রাঙাজান, কোচপাড়া, তাওয়াকুচা ও বালিজুরী—এই পাঁচটি গ্রামকে বিচ্ছিন্ন করেছে। বেশিরভাগ সময় এ নদীতে থাকে হাঁটুপানি। তবে একটু বৃষ্টি হলেই পাহাড়ি ঢলে নদী কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।এলাকাবাসী জানান, পাঁচ গ্রামে দুই শতাধিক শিক্ষার্থীসহ প্রায় ১৫ হাজার মানুষ বসবাস করেন। শুষ্ক মৌসুমে নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে নদী পার হতে তাদের একমাত্র ভরসা কাঠের সাঁকো। তবে বর্ষাকালে গ্রামবাসীর পারাপারের জন্য একমাত্র অবলম্বন হিসেবে থাকে নৌকা। যদিও পানি বাড়লে স্রোতের কারণে নৌকা দিয়ে পারাপার করাও দুরূহ হয়ে পড়ে।

বর্ষার সময় গ্রাম থেকে বের হয়ে বাজারঘাট কিংবা কর্মস্থলেও যেতে পারেন না কেউই। দিনের পর দিন শিক্ষার্থীরা স্কুলেও যেতে পারে না। এমনকি সীমান্তে টহলও দিতে পারেন না বিজিবির সদস্যরা। আবার কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লেও সময়মতো চিকিৎসা করানোও সম্ভব হয় না। তাই বিনা চিকিৎসায় অনেকের মৃত্যুও হয়েছে।

রাঙাজান এলাকার বৃদ্ধ আনছার আলী বলেন, ‘আমরা অনেক কষ্ট কইরা নদী পার অই। যেদিন পানি বেশি থাহে, ওইদিন আর বাড়িতে যাবার পাই না। নদীর এপারেই কষ্ট কইরা থাহন লাগে। কত মানুষ আইল আমাগো ব্রিজ কইরা দিবে; ভোটও দিলাম, কিন্তু ব্রিজ আর অইল না।’

এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী মো. মশিউর রহমান জানান, ‘সেতুটি নির্মাণের জন্য বরাদ্দ ছিল ৯০ মিটার। তবে বুয়েট পরীক্ষক পরামর্শ দিয়েছেন, নদীতীর ও স্রোতের পরিস্থিতি বিবেচনায় স্থায়ী ও টেকসই সেতু তৈরি করতে অন্তত ১৩০ মিটার দৈর্ঘ্যের প্রয়োজন। ফলে প্রকল্পটি আপাতত স্থগিত রয়েছে। বরাদ্দ বৃদ্ধি পেলে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।’

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ