ঢাকা , মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬ , ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাম্পার ফলনের দ্বারপ্রান্তে ত্রিশালের বোরো ধান, তবুও কৃষকের চোখে কালবৈশাখীর শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৪-২০ ২৩:২৪:৫৮
বাম্পার ফলনের দ্বারপ্রান্তে ত্রিশালের বোরো ধান, তবুও কৃষকের চোখে কালবৈশাখীর শঙ্কা বাম্পার ফলনের দ্বারপ্রান্তে ত্রিশালের বোরো ধান, তবুও কৃষকের চোখে কালবৈশাখীর শঙ্কা
 
ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
 
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ১২টি ইউনিয়নজুড়ে এখন দিগন্তজোড়া মাঠে দুলছে কাঁচা-পাকা বোরো ধানের শীষ। সবুজের বুক চিরে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে সোনালি আভা। রোদ আর হালকা বাতাসে ক্ষেতজুড়ে যেন এক নীরব উৎসবের প্রস্তুতি। কোথাও কোথাও ধান কাটা শুরু হলেও, অধিকাংশ এলাকায় আর কয়েক দিনের মধ্যেই শুরু হবে মৌসুমের সবচেয়ে ব্যস্ত সময় ধান কাটার ধুম।
 
তবে এই আনন্দঘন মুহূর্তেও কৃষকের মনে ভর করেছে দুশ্চিন্তা। মৌসুমের শেষ প্রান্তে এসে কালবৈশাখী ঝড়ের আশঙ্কা আর শ্রমিকসংকট তাদের ভাবিয়ে তুলছে। চলতি মৌসুমের শুরুতে তীব্র তাপপ্রবাহে চিটা পড়ার শঙ্কা থাকলেও সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে সে ভয় অনেকটাই কেটে গেছে। জমিতে আর্দ্রতা ফিরে আসায় ধানগাছ এখন সতেজ, দানাও ভালোভাবে গঠিত হচ্ছে।
 
আমিরাবাড়ী ইউনিয়নের কৃষক কামরুল হাসান বলেন, কয়েক দিন ধরে খুব ভয়ে আছি। মাঝেমধ্যে কালবৈশাখী ঝড় হচ্ছে। আল্লাহর রহমতে এখনো বড় ক্ষতি হয়নি। আর কয়েকটা দিন ভালো থাকলেই হয় তাহলে ফলন ভালোই হবে।
 
কৃষকদের মতে এই সময়ে মাঝারি বৃষ্টি উপকারী হলেও হঠাৎ দমকা হাওয়াসহ কালবৈশাখী ঝড় বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। পাকা ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়লে কাটার আগেই ফলন নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
 
অন্যদিকে ধান পাকতে শুরু করলেও শ্রমিক সংকট নতুন করে দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে। স্থানীয়ভাবে পর্যাপ্ত শ্রমিক না থাকায় বাইরের এলাকা থেকে শ্রমিক আনতে হচ্ছে ফলে ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।
 
মোক্ষপুর ইউনিয়নের কৃষক আজিজুল হক বলেন, ধান কাটার সময় শ্রমিক পাওয়া যায় না। যারা আসে, তারা বেশি মজুরি চায়। এতে খরচ অনেক বেড়ে যায়। সময়মতো ধান কাটতে না পারলে আবার ঝড়ে নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে।
 
ত্রিশাল উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে  চলতি মৌসুমে উপজেলায় ব্যাপক পরিমাণ জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। মাঠের বর্তমান অবস্থা সন্তোষজনক, এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
 
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া রহমান বলেন, ধান এখন পাকার পথে। আমরা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি, যেন সময়মতো ধান কাটতে পারেন এবং ঝড়ের পূর্বাভাস পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেন। আবহাওয়া সহায়ক থাকলে এ বছর ফলন ভালো হবে।
 
সব উদ্বেগের মাঝেও কৃষকের চোখে এখন স্বপ্ন সোনালি ধান ঘরে তুলতে পারলেই শুরু হবে নবান্নের আনন্দ, নতুন চালের ভাত, পিঠা-পুলি আর গ্রামীণ জীবনের চিরচেনা উৎসব।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ