শিক্ষার্থীশূন্য বিদ্যালয়: ৫ শিক্ষিকার বিপরীতে ছাত্র মাত্র ৪ জন, চরম সংকটে দক্ষিণ ভরপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
শিক্ষার্থীশূন্য বিদ্যালয়: ৫ শিক্ষিকার বিপরীতে ছাত্র মাত্র ৪ জন, চরম সংকটে দক্ষিণ ভরপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
মোঃ মিনহাজুল ইসলাম সুজন
বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি -
বকেরগঞ্জের ১৭১ নং দক্ষিণ ভরপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম এখন অস্তিত্ব সংকটের মুখে। নামেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কিন্তু বাস্তবে সেখানে শিক্ষার্থীর দেখা মেলাই ভার। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ৫ জন শিক্ষিকা কর্মরত থাকলেও মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪ জনে।
বিদ্যালয়টির বর্তমান চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পঞ্চম শ্রেণিতে মাত্র ১ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ১ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ১ জন এবং প্রথম শ্রেণিতে ১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। আশ্চর্যজনকভাবে তৃতীয় শ্রেণিতে কোনো শিক্ষার্থীর অস্তিত্বই নেই। অর্থাৎ পুরো স্কুলে বর্তমানে পাঠদান করার মতো শিক্ষার্থী আছে মাত্র ৪ জন।
বিদ্যালয়টিতে নেই কোনো যথাযথ ভবন। জরাজীর্ণ পরিবেশে ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষিকারা স্কুলে এলেও উপযুক্ত পরিকাঠামো না থাকায় পাঠদান কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপযুক্ত ভবন ও পরিবেশ না থাকায় অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের এই বিদ্যালয়ে পাঠাতে আগ্রহ হারাচ্ছেন।
কাগজে-কলমে বিদ্যালয়টিতে ৫ জন শিক্ষিকা নিযুক্ত থাকলেও সরেজমিনে দেখা গেছে মাত্র ২ জন শিক্ষিকা উপস্থিত রয়েছেন। শিক্ষার্থী সংকটের কারণে শিক্ষিকাদের মধ্যেও এক ধরণের দীর্ঘমেয়াদী হতাশা বিরাজ করছে। পাঠদানের পরিবেশ না থাকায় তারা এক প্রকার অলস সময় পার করছেন।
এদিকে কোমল মতি বাচ্চাদের নাম ব্যাবহার করে শতাদিক টিফিন লোপাটের প্রমান পাওয়া যায় প্রধান শিক্ষিকা ইসরাত জাহান ডলির বিরুদ্ধে, রবিবার স্কুল চলাকালীন সাংবাদিকদের সাথে একই স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা ফাতিমা বেগম এবং সুমি আক্তার বলেন প্রধান শিক্ষিকা ইসরাত জাহান প্রতিনিয়ত, ডিম,কলা,রুটির নিজের বাসায় নিয়ে যায় এ বিষয় সহকারী শিক্ষিকা নাজমুন্নাহার প্রতিবাদ করলে তাকেও নেনস্তা হতে হয় প্রধান শিক্ষিকা ইসরাত জাহান ডলির হাতে,
উপস্থিত শিক্ষিকা ফাতিমা বেগম এবং সুমি আক্তার ছারা বাকি তিনজন শিক্ষিকার বিষয় প্রধান শিক্ষিকা ইসরাত জাহান ডলির কাছে তার মুঠোফোনে একাদিক বার অনুপস্থিতের কারন জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন,
একটি সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমন করুণ দশা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
কেন একটি সরকারি স্কুলে মাত্র ৪ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে এবং কেন বছরের পর বছর ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন নাগরিকরা। সরকারি সম্পদের অপচয় রোধে এবং শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।
এবিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রুহুল আমীন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলে আস্বস্ত করেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স