ঢাকা , শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬ , ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিডিএ’র শর্ত ভঙ্গ করে কোরাল রীফের বহুতল ভবন

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৪-১৭ ১৮:৩৩:৪৩
সিডিএ’র শর্ত ভঙ্গ করে কোরাল রীফের বহুতল ভবন সিডিএ’র শর্ত ভঙ্গ করে কোরাল রীফের বহুতল ভবন
নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রামে রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান কোরাল রীফ প্রপার্টিজের বিরুদ্ধে প্রতারণা, ক্ষতিপূরণ আত্মসাৎ, জাল-জালিয়াতির আশ্রয়সহ নানা অভিযোগ উঠেছে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) আইন ও নকশা তোয়াক্কা না করে ১৫ তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করে জমির মালিককে প্রাপ্য ফ্ল্যাট বুঝিয়ে না দিয়েই লাপত্তা হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, একই ফ্ল্যাট একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি, মালিকের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ভুয়া চুক্তি তৈরি, কোটি কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ আত্মসাৎ এবং পাওনা চাওয়াতে মালিকপক্ষকে মারধর ও হত্যার হুমকি দেন ডেভলাপার কোম্পানি কোরাল রীফের মালিকরা। এসব ঘটনায় আদালতে পাল্টাপাল্টি মামলা করেন ভুক্তভোগী জমির মালিক ও ডেভলাপার প্রতিষ্ঠানটি। তবে ডেভলাপারের করা মামলায় কোনো ধরনের সততা না মিললেও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের অনুসন্ধানে অভিযোগের সততা পাওয়া গেছে জমির মালিকের করা মামলায়। আর পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনেই ফেঁসে যাচ্ছে কক্সবাজার ভিত্তিক রিয়েল স্টেট কোম্পানিটি।

জানা যায়, ২০১২ সালে নগরীর আগ্রাবাদের খান বাড়িতে ৩৮ শতক জমিতে একটি অত্যাধুনিক ভবন নির্মাণের লক্ষে জমির ৩০ জন ওয়ারিশের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন কোরাল রীফের পরিচালক কামরান দিদার ও মো. সাইফুল ইসলাম। চুক্তির শর্ত ছিল তিন বছরের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করে মালিকদের বুঝিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় পার হলেও মালিকরা তাদের ন্যায্য পাওনা বুঝে পাননি। সিডিএ থেকে ২০১৪ সালে ১৫ তলা ভবনের অনুমতি মিললেও ডেভেলপার কোম্পানিটি শুরু থেকেই নানা টালবাহানা শুরু করে।

চুক্তিতে স্পষ্ট উল্লেখ ছিল যে, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হলে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। সেই হিসেবে জমির মালিকরা কয়েক কোটি টাকা পাওনা থাকলেও ২০২৪ সাল পর্যন্ত কোরাল রীফ কোনো অর্থ পরিশোধ করেনি। উল্টো ২০২৩ সাল থেকে তারা মালিকদের স্বাক্ষর জাল করে নতুন নতুন সম্পূরক চুক্তি তৈরি করে প্রতারণার জাল বিস্তার করেছে। জমির মালিককে না জানিয়ে বিভিন্ন পক্ষের কাছে ফ্ল্যাট হস্তান্তর করতে থাকে ডেভলাপার প্রতিষ্ঠান। এ নিয়ে ২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর আগ্রাবাদ ভূমি অফিসে জমির মালিক সামিউল খান, আসিফ খান, আমজাদ খান একটি আপত্তি জমা দেন। এতে ওই ভবনের নামজারি বন্ধ করে দেন আগ্রাবাদ সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি)। এসব ঘটনায় জমির মালিক সামিউল খান তিনজনের পক্ষে কোরাল রীফের বিরুদ্ধে চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রট আদালতে প্রতারণার মামলা করেন। এতে কোরালের পরিচালক সাইফুল ইসলাম, ইনচার্জ জামাল উদ্দিনসহ ১০ জনকে আসামি করা হয়।

মামলা সূত্রে জানা যায়, জমির মালিকরা যখন তাদের প্রাপ্য ফ্ল্যাট বুঝে নিতে চান, তখন তাদের কাছে উল্টো দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের জুনে এক বৈঠকে জমির মালিক সামিউল খান ও তার বৃদ্ধ পিতাকে মারধর করা হয়। মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিএমপির ডিবি বন্দর-পশ্চিম বিভাগ।

তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোহাম্মদ মহসীন উদ্দিন রুবেল প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, বাদি সামিউল খানের আনীত অভিযোগের সততা মিলেছে। অন্যদিকে কোরাল রীফ জমির মালিকদের বিবাদী করে মামলা করে। তদন্ত শেষে তার কোনো সততা পাওয়া যায়নি বলে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করে সিএমপির ডিবি বিভাগ।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ