নিজস্ব প্রতিবেদক
দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর নাগরিকত্ব পাচ্ছে সিরিয়ার কুর্দিরা। গত সপ্তাহ থেকে ‘অনিবন্ধিত’ কুর্দিরা সিরিয়াজুড়ে নিবন্ধনকেন্দ্রে ভিড় করছেন। ১৯৬২ সালের বিতর্কিত আদমশুমারির পর থেকে তারা নাগরিকত্বহীন হয়ে পড়েন।
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার ভিত্তিতে তারা এখন নাগরিকত্বের আবেদন করছেন।
৪৯ বছর বয়সি আহমাদ বলেন, ‘নাগরিকত্ববিহীন একজন মানুষ কার্যত মৃত।’
তিনি আরো বলেন, ‘ভাবুন তো, আমি আমার সন্তানদের বা আমাদের ঘরবাড়ি নিজের নামে নিবন্ধন করতে পারিনি।’
আহমাদ বলেন, ‘আমার দাদারও নাগরিকত্ব ছিল না। তখন থেকে আমরা কোনো সরকারি নথি ছাড়াই বসবাস করছি।’
দীর্ঘ সারির সামনে টেবিলগুলোতে ছড়িয়ে আছে নিবন্ধন ফরম, ব্যক্তিগত ছবি ও পুরোনো কাগজপত্র। সরকারি কর্মীরা সেগুলো নথিভুক্ত করছেন।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার জানুয়ারির এক ডিক্রির পর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে দেশে বসবাসরত কুর্দিদের নাগরিকত্ব দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে দীর্ঘদিন অনিবন্ধিতদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ইউক্রেনে ২৪ ঘণ্টায় ৬৫৯টি ড্রোন হামলা রাশিয়ার
ডিক্রিতে কুর্দিদের সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত অধিকারের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। কুর্দি ভাষাকে জাতীয় ভাষা হিসেবেও স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
এর আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে কুর্দি যোদ্ধা ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ চলছিল। সিরিয়ার উত্তর-পূবাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা এক সময় কুর্দিদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। পরে একটি চুক্তির মাধ্যমে কুর্দি প্রশাসনকে কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রের সঙ্গে একীভূত করা হয়।
এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে, ফেব্রুয়ারিতে সরকারি বাহিনী কুর্দি নিয়ন্ত্রিত হাসাকে ও কামিশলি শহরে প্রবেশ করে। মার্চে পূর্বাঞ্চলের জন্য প্রতিরক্ষা উপমন্ত্রীর সহকারী হিসেবে জ্যেষ্ঠ কুর্দি সামরিক নেতা সিপান হামোকে নিয়োগ দেওয়া হয়।