নিজস্ব প্রতিবেদক
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে নীলফামারীর বহুল প্রতীক্ষিত দারোয়ানী টেক্সটাইল মিল পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই মিলটিতে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছে সরকার।
বাণিজ্য, শিল্প এবং পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম রোববার সকালে মিলটি পরিদর্শন শেষে এ তথ্য জানান। পরিদর্শনকালে তিনি মিলের বর্তমান অবস্থা ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সোনালি আঁশ আমাদের ঐতিহ্য। পাটের সেই সোনালি যুগ অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছিল। তবে সরকার নানাবিধ কর্মসূচির মাধ্যমে সেই ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে কাজ করছে।”
তিনি আরও জানান, নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী দেশের বন্ধ থাকা টেক্সটাইল ও জুট মিলগুলো পুনরায় চালুর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে।
মিলটির অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে পুনরায় চালুর লক্ষ্যে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে এবং বর্তমানে তা মূল্যায়নের পর্যায়ে রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যেই মিলটিতে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, মিলটি চালু হলে নীলফামারীসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
তিনি বলেন, “দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করতে সরকার বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সম্পৃক্ত করে এসব মিল পুনরায় সচল করা হবে।”
প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার প্লাস্টিক ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করছে এবং পাটের বহুমুখী পণ্য ব্যবহারে জনগণকে উৎসাহিত করছে। এ ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ে কাজ চলবে বলেও জানান তিনি।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য আল ফারুক আব্দুল লতিফ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাইদুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
দীর্ঘদিন পর দারোয়ানী টেক্সটাইল মিল পুনরায় চালুর খবরে স্থানীয় শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের সঞ্চার হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মিলটি চালু হলে উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং দেশের বস্ত্র খাতে নতুন গতি সঞ্চার করবে।