কাউখালী প্রতিনিধি
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার দক্ষিণ বাজারের সাপ্তাহিক হাটে প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ হাঙ্গর মাছ “শাপলা পাতা মাছ” নামে বিক্রি করে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে ।একদল অসাধু মাছ ব্যবসায়ী নিয়মিত ৫ থেকে ৬শত টাকা কেজি দরে বাজারে বিক্রি করার অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে। প্রতি শুক্র ও সোমবার সাপ্তাহিক হাটের দিনে এই অবৈধ কার্যক্রম চললেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় দিন দিন তা বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। মাছ ব্যবসায়ী জিয়াউদ্দিন বলেন নিষেধ করলেও এরা কথা শুনেনা। হাঙ্গর মাছগুলো অন্যত্র বসে কেটে টুকরো টুকরো করে বাজারে বসে শাপলা পাতা বলে বিক্রি করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাটে বিক্রেতারা হাঙ্গরের মাংসকে ভিন্ন নামে প্রচার করে সাধারণ ক্রেতাদের বিভ্রান্ত করছেন। অনেক ক্রেতা না জেনে এই মাছ কিনে প্রতারিত হচ্ছেন।
অথচ হাঙ্গর কিংবা শাপলা পাতা দুটি প্রাণী নিষিদ্ধ বন্যপ্রাণীর অন্তর্ভুক্ত। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী এগুলি ধরা, সংরক্ষণ করা, বহন করা ও বিক্রি করা সবকিছুই নিষিদ্ধ এবং দণ্ডনীয় অপরাধ। এগুলি যেকোনো জায়গায় যার কাছে পাওয়া যাবে সেই অপরাধী হিসেবে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী বিচারের সম্মুখীন হবেন।
যে কোন সূত্রে এই যদি অপরাধ এর বিষয়ে জানতে পারলে বন বিভাগ অথবা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা। অথচ কাউখালীতে এসব বিষয় মৎস্য দপ্তরকে জানালে বন বিভাগের অজুহাত দিয়ে এদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না।
এ বিষয়ে উপজেলা উপজেলা মৎস্য অফিসার মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন, হাঙ্গর এবং তথাকথিত “শাপলা পাতা মাছ” উভয়ই সংরক্ষিত বন্যপ্রাণীর আওতাভুক্ত। এসব মাছ ধরা, বিক্রি বা বাজারজাত করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে সরাসরি আইনগত ব্যবস্থা নিতে হলে বন বিভাগকে সম্পৃক্ত হতে হবে। আপনার মাধ্যমে অভিযোগ পেয়ে মাছগুলো নষ্ট করে ফেলে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এই মাছ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।