ঢাকা , শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ , ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

​কচ্ছপিয়া ও গর্জনিয়া—রামুর শস্যভান্ডার হিসেবে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৪-১০ ২৩:৪৩:৪৬
​কচ্ছপিয়া ও গর্জনিয়া—রামুর শস্যভান্ডার হিসেবে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা ​কচ্ছপিয়া ও গর্জনিয়া—রামুর শস্যভান্ডার হিসেবে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা



হেলাল উদ্দীন (মিঞাজী) নাইক্ষ‍্যংছড়ি (বান্দরবান) প্রতিনিধিঃ

কক্সবাজারের রামু উপজেলায় রয়েছে মোট ১১টি ইউনিয়ন। এর মধ্যে কচ্ছপিয়া ও গর্জনিয়া ইউনিয়ন আজ কৃষি উৎপাদনের দিক থেকে অন্যতম শস্যভান্ডার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। প্রাকৃতিক অনুকূল পরিবেশ, উর্বর জমি এবং কৃষি বিভাগের কার্যকর পরামর্শে এ দুই ইউনিয়নে কৃষিতে এসেছে উল্লেখযোগ্য সাফল্য।


জানা গেছে, কচ্ছপিয়া ও গর্জনিয়া ইউনিয়নের বুক চিরে প্রবাহিত হয়েছে বাকখালী নদী। নদীর দুই পাড়জুড়ে রয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় চর, যেমন—ফকিন্নি চর, ফাক্রিকাটা চর, তিতারপাড়া চর, কচ্ছপিয়ার চর ও সিকদারপাড়া চর। বর্ষা মৌসুমে এসব চরে পলিমাটি জমে জমিগুলো অত্যন্ত উর্বর হয়ে ওঠে, যা কৃষি উৎপাদনের জন্য বিশেষভাবে সহায়ক।

এসব চরে কৃষকরা মরিচ, শসা, করলা, টমেটোসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল আবাদ করছেন। ফলে তারা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন এবং স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন।


কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের ফাক্রিকাটা গ্রামের কৃষক আইয়ুব জানান, তিনি তামাক চাষের পরিবর্তে মরিচ চাষ করে আগের তুলনায় ৪ থেকে ৫ গুণ বেশি লাভ করছেন। তার ৮০ শতাংশ জমিতে মরিচ চাষে মোট খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, আর বিক্রি করে আয় করেছেন প্রায় ৫ লাখ টাকা।


তিনি আরও বলেন, “উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম আমাদের সঠিক সময়ে বপন, কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। তার দিকনির্দেশনার কারণেই আমরা ভালো ফলন পাচ্ছি।”
একই এলাকার কৃষক আমান উল্লাহ, মির আহমেদ, ছৈয়দ আলম, মোস্তাক আহমেদ ও হামিদ হোসাইন জানান, কৃষি অধিদপ্তরের নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে তারা আরও বেশি উৎপাদন করতে পারবেন এবং অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী হবেন।

স্থানীয়দের মতে, কচ্ছপিয়া ও গর্জনিয়া ইউনিয়নের চরাঞ্চলগুলোকে পরিকল্পিতভাবে কৃষির আওতায় আনা গেলে রামু উপজেলা শুধু স্থানীয় চাহিদাই পূরণ করবে না, বরং দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও ফসল সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
কৃষি বিভাগের উদ্যোগ, কৃষকদের পরিশ্রম এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহার—এই তিনের সমন্বয়ে কচ্ছপিয়া ও গর্জনিয়া ইউনিয়ন সত্যিকার অর্থেই রামু উপজেলার শস্যভান্ডার হিসেবে গড়ে উঠছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ