কাউখালী প্রতিনিধি:
পিরোজপুরের কাউখালীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য চালু থাকা মিড-ডে মিল কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৬৭ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ হাজার ২৮৯ জন ছাত্র-ছাত্রী জন্য ৪ হাজার ৭৫৩ পিস করে এক একটি আইটেমের চাহিদা পত্র অনুযায়ী খাবার সরবরাহ করেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। খাবার তালিকা রয়েছে ডিম, দুধ বনরুটি, বিস্কুট ও কলা। সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক একেক ধরনের খাবার এক একদিন পরিবেশন করার নির্দেশনা রয়েছেন। শিশু ছাত্র-ছাত্রীদের পুষ্টিহীনতা দূর করার জন্য প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীকে সরকার পুষ্টিকর মানসম্পন্ন খাবার প্রদান করার জন্য নির্দেশ দেন।
অথচ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মানসম্মত খাবারের পরিবর্তে বাসি পঁচা নিম্নমানের ছত্রাক যুক্ত বনরুটি, পচা -কাঁচা কলা এবং নষ্ট ভাঙ্গা ডিম পরিবেশন করার অভিযোগ এখন প্রত্যেকটি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের মুখে মুখে। বিভিন্ন স্কুল গিয়ে জানা যায়, এ উপজেলায় দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খাদ্য সামগ্রী সরবরাহ করেন। যার মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় ভোলার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা (জিজেইউএস) ডিম, রুটি, কলা পরিবেশন করে থাকেন। দুধ এবং বিস্কুট অন্য একটি কোম্পানি সরবরাহ করে থাকেন।
রুটি, দুধ, কলার মান নিয়ে প্রতিদিনই অভিযোগের পাল্লা ভারী হচ্ছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সপ্তাহের ৩ দিন ডিম ও ১২০গ্রাম বনরুটি, একদিন ১২০ গ্রাম বন রুটি ও ২শত গ্রাম ইউ এইচ টি দুধ , বাকি একদিন ফটিফাইড বিস্কুট ৭৫ গ্রাম এবং স্থানীয় মৌসুমী ফল অথবা ১০০ গ্রাম কলা উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করার নির্দেশনা রয়েছে। দুধ ও বিস্কুট নিয়ে কোন অভিযোগ না থাকলেও পচা ডিম, নষ্ট কাঁচা কলা এবং কাগজে কলমের মেয়াদ থাকলেও পচা ফাংগাস যুক্ত বন রুটি পরিবেশন করার অভিযোগ এখন প্রতিটি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের।
বনরুটির ৫দিন মেয়াদ লেখা থাকলেও দুই দিনের মাথায় খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে যায়। বেশিরভাগ সময়ই নষ্ট ভাঙ্গা ডিম দেওয়া হয়। এছাড়া কাঁচা নষ্ট পচা কলা পরিবেশন করা হয়। যার অধিকাংশই কলা খাওয়ার উপযুক্ত না হওয়ায় ময়লার ঝুঁতে ফেলতে হয়। বিতরণ করা খাবারের মান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গেছে, অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা কলা ও অন্যান্য খাবার নিম্নমানের হওয়ায় তা ফেলে দিতে হচ্ছে।
স্থানীয় কয়েকটি বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা কলার একটি বড় অংশ পচা বা অতিরিক্ত কাঁচা। ফলে অনেক শিক্ষার্থী তা খেতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছে। শিক্ষার্থীদের মতে, “কলা খেতে গেলে স্বাদ খারাপ লাগে, অনেক সময় গন্ধও থাকে”—এমন অভিযোগও উঠে এসেছে।
অভিভাবকরাও এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, সরকারের পক্ষ থেকে বরাদ্দ দেওয়া হলেও সঠিক তদারকির অভাবে নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন শিশুদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ হচ্ছে না, অন্যদিকে খাবারের অপচয়ও বাড়ছে।
বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষকরা জানান, খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। তারা বলেন, “আমরা বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করেছি।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারা আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অভিজ্ঞ জনের মতে, নিয়মিত মনিটরিং এবং কঠোর মান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন, যাতে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার পায়। অভিভাবকরা বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য চালু করা খাবার কর্মসূচি একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হলেও এর সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। নিম্নমানের খাবার সরবরাহ বন্ধ করে মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এই কর্মসূচি সুফল পাওয়া যাবে না। বরং অনিয়ম দুর্নীতি আরো বৃদ্ধি পাবে।
এ বিষয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা (জিজেইউএস) প্রতিনিধি মোঃ কামরুজ্জামান যা বলেন, আমরা সঠিকভাবেই খাদ্য পরিবেশন করছি। তবে ডিম পরিবেশন করতে গিয়ে দুই একটি খারাপ হয়। যা আমরা পরবর্তী সময়ে পরিবর্তন করে দেই। কলার মান নিয়ে যে অভিযোগ হয়েছে আশা করি ভবিষ্যতে আর হবে না। রুটির বিষয়টা একটু জটিল কারণ উৎপাদনের পরে পাঁচ দিনের মেয়াদ থাকলেও বাস্তবে গরম হওয়ার জন্য দুই দিনের বেশি রাখা যায় না বলে তিনি স্বীকার করেন। এ ব্যাপারে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন,অভিযোগগুলো আমরাও পেয়েছি দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।