ঢাকা , মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬ , ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরদিনই ইসরাইল ও হেজবুল্লাহর পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা


আপডেট সময় : ২০২৬-০৪-০৯ ১০:৪৭:০০
যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরদিনই ইসরাইল ও হেজবুল্লাহর পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরদিনই ইসরাইল ও হেজবুল্লাহর পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শর্তসাপেক্ষে দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণার ২৪ ঘণ্টা পেরুনোর আগেই বুধবার ইসরাইল লেবাননে ব্যাপক হামলা চালায়। এতে অন্তত ১৮২ জন নিহত হন। জবাবে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবুল্লাহ উত্তর ইসরাইলে রকেট নিক্ষেপ করেছে।

এদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি জানিয়েছে, ইসরাইল যদি লেবাননের ওপর হামলা অব্যহত রাখে, তাহলে প্রতিপক্ষকে 'পস্তাতে হয়এমন জবাব' দেবে তারা।

এমন অবস্থায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই শান্তিচুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

সর্বশেষ খবরে জানা যাচ্ছে, লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবুল্লাহ জানিয়েছে, ইসরাইলের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের প্রতিক্রিয়ায় তারা উত্তর ইসরাইলে রকেট নিক্ষেপ করেছে।

ইরানসমর্থিত এই গোষ্ঠীটি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, লেবাননের বিরুদ্ধে 'ইসরাইলি-আমেরিকান আগ্রাসন' বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তারা হামলা চালিয়ে যাবে।

এর আগে, স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। পরে তা নিশ্চিত করে ইসরাইল, ইরান ও চুক্তির মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান।

লেবাননে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইসরাইল

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরই বুধবার লেবাননে ব্যাপক হামলা চালায় ইসরাইল, এতে অন্তত ১৮২ জন নিহত হয়েছেন।

এখন লেবাননে চলমান হামলায় যুদ্ধবিরতি কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এছাড়া, লেবানন যুদ্ধবিরতির আওতায় পড়ে কী-না, তা নিয়ে এখনও দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।

বুধবার মাত্র ১০ মিনিটে লেবাননের ১০০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইসরাইল।আর হামলা বন্ধ না হলে পাল্টা আঘাতের হুমকি দিয়েছে ইরান।

লেবাননকে 'পৃথক সংঘাতের' বিষয় হিসেবে বর্ণনা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইসরাইল ইরান-সংক্রান্ত চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করছে না।

প্রসঙ্গত, গত ছয় সপ্তাহে লেবাননে প্রায় এক হাজার ৫০০ মানুষ নিহত হয়েছে, যার মধ্যে শিশুর সংখ্যা ১৩০ জন।

আর বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লক্ষেরও বেশি মানুষ।

এদিকে, এ হামলাকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হেজবুল্লাহর ওপর 'সবচেয়ে বড় আঘাত' হিসেবে বর্ণনা করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

তিনি বলেন, 'প্রয়োজন হলে' ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে আবার লড়াই শুরু করবে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ইরানে হামলা ও শাসনব্যবস্থা পতনের যৌথ উদ্যোগে রাজি করিয়ে জীবনের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জন করেছেন বলে ধরেই নিয়েছিলেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

তবে, তেহরানে হামলা বন্ধ করার বিষয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তিনি যে শেষ মুহূর্তে অবগত হয়েছেন, এ ধরনের দাবি আজ তাকে অস্বীকার করতে হয়েছে।

তিনি শপথ করে বলেছেন, প্রয়োজন হলে ইসরাইল আবারও ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করতে প্রস্তুত থাকবে।

দেশটির বিরোধী রাজনীতিবিদরা বলছেন, নেতানিয়াহু যুদ্ধের লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন। তাকে আলোচনার টেবিলে ডাকা হয়নি আর তার পদক্ষেপ ইরানকে আরও বেশি প্রতিশোধপরায়ণ করে তুলেছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ