নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজনৈতিক প্রশ্ন সংবিধানের দোহাই দিয়ে, অজুহাত দিয়ে আমাদেরকে কাঁঠাল খাওয়ানোর চেষ্টা করবেন না। এই সংবিধানের কাঁঠাল জপতে জপতে ওবায়দুল কাদেররা আজ কলকাতার আইসিইউতে রাত কাটাচ্ছে, শেখ হাসিনাকে এক কাপড়ে বাংলাদেশ ছাড়তে হয়েছে, ভারতকে আজ আওয়ামী লীগের তীর্থস্থান বানাতে হয়েছে। এমন মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।
সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকাল ৫ টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (রাকসু) আয়োজিত 'গণভোটের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি-সংকটের পথে দেশ ' শীর্ষক সেমিনারে এ মন্তব্য করেন তিনি।
এসময় ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, যদি শিক্ষা না নেন তাহলে আপনাদেরকেও (বিএনপি) ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। ১৭ বছরের জুলুম নির্যাতনের ইতিহাস এত তাড়াতাড়ি ভুলে গেলেন, আপনারা গোল্ড ফিসকেও হার মানিয়েছেন। আপনারা আত্মবিস্মৃত জাতি, আওয়ামী লীগদের কে এটা ভুলতে ১৭ বছর সময় লেগেছিল। আপনার ১৭ দিনও সময় নেন নাই। আপনাদের জন্য আমরাও লড়াই করেছি, সংগ্রাম করেছি, শহীদ জিয়ার স্বপ্নের রাজনীতি আমরা করছি। কিন্তু আপনাদের আচরণের মধ্যে বেগম যে একে খুঁজে পাচ্ছি না। আপনাদের বিএনপির সংবিধান বিশেষজ্ঞদের আয়নায় আমরা জিয়াউর রহমানকে খুঁজে পাচ্ছি না। এই বিএনপি কোত্থেকে এসেছে। যারা বাংলাদেশ পন্থী রাজনীতি করেছে আমরা তো সেই বিএনপিকে খুঁজে পেতে চাই। যারা ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন করেছে আমরা সেই বিএনপিকে খুঁজে পেতে চাই। যারা দিল্লির আধিপত্যের বিরুদ্ধে লড়াই করতে যেয়ে ধান খেতে, পাট খেতে ঘুমিয়েছে আমরা সেই বিএনপিকে খুঁজে পেতে চাই।
বক্তব্যে জুলাই সনদের বিষয়ে তিনি বলেন, যারা বোধ করছে আজকে জুলাই সনদকে তোয়াক্কা করবেনা তাদেরকে মনে করিয়ে দিতে চাই বাংলাদেশ হাওয়া থেকে উড়ে আসে নাই। যে লড়াই দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে তা আবারও নামবে। বাংলাদেশ তার লড়াইয়ের ইতিহাস কে লক্ষ্য রেখে আবারো জবাব দিবে যে তারা আজাদের ইতিহাস কে ভুলে যায় নাই। বাংলাদেশের যারা পুরনো রাজনীতির ইতিহাস নিয়ে আসতে চান তারা আওয়ামী লীগের ইতিহাস ভুলে যায়েন না, মুসলিম লীগের ইতিহাস ভুলে যায়েন না।
তিনি বলেন, জুলাই সনদ হয়েছে বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইকে সামনে রেখে, গত ২০ বছরের গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তির লড়াইকে সামনে রেখে। তাই আসুন যে যেই দলেরই রাজনীতি করেন না কেনো, সবাই বাংলাদেশের রাজনীতি করি, আজাদের পক্ষে রাজনীতি করি, ইনসাফের পক্ষে রাজনীতি করি। বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের রাজনীতি করি।
তিনি বলেন, গত পাঁচ বছরে যেসব মার্কা গুলো মানুষের কাছে জনপ্রিয় ছিল সেসব মার্কা থেকে মানুষ এখন মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। বাংলাদেশের ইনক্লুসিভ নির্বাচন হয়েছে নৌকা ছাড়া। যারা বাংলাদেশের টু-থার্ড পিরিয়ড সময় পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিল। বৈধ এবং অবৈধভাবে ক্ষমতায় ছিল সেই জাতীয় পার্টির মার্কা এখন উধাও হয়ে গেছে। রংপুরেও এখন তাদেরকে খুঁজে পাওয়া যায় না। বর্তমানে যারা নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের বিপক্ষে দাঁড়াচ্ছেন মনে রাখবেন ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না। যারা মানুষের ভাষা বুঝবে না যারা ইতিহাস বুঝবে না তারা তারা একদিন নাই হয়ে যাবে।
রাকসু'র বিতর্ক সম্পাদক ইমরান লস্করের সঞ্চালনায় সেমিনারে আরো উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট শিশির মনির, রাকসু'র সহ-সভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার, কথাসাহিত্যিক নাজিব ওয়াদুদসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।