ঢাকা , সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬ , ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

​লাল গোলাপে সম্প্রীতির বার্তা কালীগঞ্জে ইস্টার সানডে ঘিরে ব্যতিক্রমী উদ্যোগে আলোচনায় এক যুবক

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৪-০৫ ২১:৪৯:১১
​লাল গোলাপে সম্প্রীতির বার্তা কালীগঞ্জে ইস্টার সানডে ঘিরে ব্যতিক্রমী উদ্যোগে আলোচনায় এক যুবক ​লাল গোলাপে সম্প্রীতির বার্তা কালীগঞ্জে ইস্টার সানডে ঘিরে ব্যতিক্রমী উদ্যোগে আলোচনায় এক যুবক

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ

গাজীপুরের কালীগঞ্জে ইস্টার সানডে উপলক্ষে এক অনন্য মানবিক উদ্যোগ নজর কেড়েছে এলাকাবাসীর। ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে শুধু খ্রিস্টান সম্প্রদায় নয়, বরং সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে লাল গোলাপ বিতরণ করে ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছেন হাবিব খান (৩৮) নামে এক যুবক।

রবিবার (৫ এপ্রিল) সকাল উপজেলার তুমলিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বোয়ালী, দক্ষিণ ভাদার্ত্তী, ভেটুর ও পিপ্রাশৈর গ্রামে এ ব্যতিক্রমী আয়োজন দেখা যায়। বিশেষ করে তুমলিয়া ধর্মপল্লীর সামনে ইস্টার সানডের শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় লাল গোলাপ হাতে মানুষের হাসিমুখে এক হৃদয়ছোঁয়া পরিবেশ সৃষ্টি হয়। ছোট-বড় সবাই সাদরে গ্রহণ করেন ভালোবাসার এই প্রতীক।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এমন উদ্যোগ আগে খুব একটা দেখা যায়নি। ধর্ম, বর্ণ বা পেশার বিভাজন পেরিয়ে মানুষের মাঝে ভালোবাসার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার এই প্রয়াস এলাকাজুড়ে ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও বিষয়টি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

উপজেলার তুমলিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভেটুর গ্রামের বাসিন্দা প্রাঙ্গন পালমা, অমল কস্তা, জেকসন, রন্তা কস্তা, সঙ্গীতা কস্তা, পিউরিফিকেশন, বাদল পালমা ও চন্দন পালমা জানান, “ইস্টার সানডে আমাদের জন্য আনন্দের দিন। কিন্তু হাবিব ভাই যেভাবে সকল ধর্মের মানুষকে এক কাতারে এনে গোলাপ ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, তা সত্যিই ব্যতিক্রমী। এতে আমাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ আরও দৃঢ় হয়েছে।”

একই ইউনিয় ও ওয়ার্ডের পিপ্রাশৈর গ্রামের বাসিন্দা সুকু ছেরাও, মেরি ছেরাও, কাকলি কস্তা ও সুধীর পালমা বলেন, “আমরা খুব আনন্দিত ও আপ্লুত। একজন মুসলমান হয়েও তিনি আমাদের উৎসবে এসে ভালোবাসা ভাগ করে নিয়েছেন-এটা আমাদের জন্য গর্বের। এমন উদ্যোগ সমাজে সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”

ওই ওয়ার্ডের দক্ষিণ ভাদার্ত্তী গ্রামের বাসিন্দা রঞ্জিত পালমা, সুমা রোজারিও, কল্পনা কস্তা ও শিশির কোরায়া জানান, “বর্তমান সময়ে যেখানে বিভেদ বাড়ছে, সেখানে হাবিব খানের এই উদ্যোগ মানুষকে একসাথে থাকার শিক্ষা দেয়। এটি শুধু ফুল দেওয়া নয়, বরং হৃদয়ের সংযোগ তৈরি করার এক অসাধারণ প্রয়াস।”

উদ্যোক্তা হাবিব খান বলেন, “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার-এই বিশ্বাস থেকেই আমার ছোট্ট উদ্যোগ। ইস্টার সানডে উপলক্ষে খ্রিস্টান ভাই-বোনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে চেয়েছি। ভালোবাসা ছড়িয়ে দিলে সমাজে বিভেদ কমে, বন্ধন দৃঢ় হয়। আগেও ঈদের সময় মুসল্লিদের মাঝে গোলাপ ও শিশুদের বই-খাতা দিয়েছি, ভবিষ্যতেও এমন কাজ চালিয়ে যেতে চাই।”

এই আয়োজন শুধু একটি ফুল বিতরণের ঘটনা নয়; এটি এক হৃদয়ের গল্প-যেখানে মানুষ মানুষকে আপন করে নেয়। কালীগঞ্জের এই দৃশ্য যেন আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ভালোবাসা ও সহমর্মিতাই পারে সব বিভাজন ভেঙে এক সুন্দর সমাজ গড়ে তুলতে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ