ঢাকা , শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬ , ২১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ব্রাহ্মণপাড়ায় স্বেচ্ছাশ্রমে সড়ক সংস্কার, দুর্ভোগ কমাতে এগিয়ে এলেন যুবকেরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৪-০৪ ১৭:৩৮:৫৮
ব্রাহ্মণপাড়ায় স্বেচ্ছাশ্রমে সড়ক সংস্কার, দুর্ভোগ কমাতে এগিয়ে এলেন যুবকেরা ব্রাহ্মণপাড়ায় স্বেচ্ছাশ্রমে সড়ক সংস্কার, দুর্ভোগ কমাতে এগিয়ে এলেন যুবকেরা
মোঃ অপু খান চৌধুরী।।
 
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ধান্যদৌল বাজার থেকে কালামুড়িয়া পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার পর দীর্ঘ দুই বছরেও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করে। এমন পরিস্থিতিতে জনদুর্ভোগ কমাতে এবং যাতায়াত সচল করতে স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা সংস্কারে এগিয়ে এসেছেন স্থানীয় একদল যুবক।
 
শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল থেকে উপজেলার কুমিল্লা-মিরপুর সড়কের ধান্যদৌল বাজার থেকে কালামুড়িয়া এলাকা পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ১০০ মিটার সড়কের বিভিন্ন গর্ত ও ভাঙাচোরা অংশ মেরামতের কাজ করেন তারা।
দুর্ভোগ যখন নিত্যসঙ্গী
 
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই সড়কটি দিয়ে ধান্যদৌল, কালামুড়িয়া, নাগাইশ ও শশীদলসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন। ব্রাহ্মণপাড়া হয়ে কুমিল্লা সদরে যাতায়াতের এটিই অন্যতম প্রধান পথ। কিন্তু ২০২৪ সালের বন্যার পর সড়কটির পিচ ঢালাই উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। ফলে অটোরিকশা, সিএনজি ও মোটরসাইকেল চালকদের প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হচ্ছিল। অনেক ক্ষেত্রে যাত্রীরা বাধ্য হয়ে পথটুকু হেঁটে পার হতেন।

 
অটোরিকশাচালক লিটন বলেন, "এই সড়ক দিয়ে গাড়ি চালিয়ে আমার সংসার চলে। রাস্তার বেহাল দশার কারণে গাড়ি চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। আয় কমে যাওয়ায় অনেক কষ্ট করতে হচ্ছিল।" সিএনজিচালক সুমন জানান, রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে তিনি গাড়ি দূরে রেখে হেঁটে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হতেন।
 
 
জনসাধারণের এই ভোগান্তি দেখে চুপ করে বসে থাকতে পারেননি স্থানীয় তরুণেরা। কাইয়ুম খান চৌধুরী, বশির, পলাশ, আকরাম, আশিক, সুমন ও মানিকের নেতৃত্বে যুবসমাজ ঐক্যবদ্ধ হয়ে সংস্কারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। তারা নিজেদের উদ্যোগে ইট, বালু ও কংক্রিট সংগ্রহ করে সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো ভরাট ও মেরামত করেন।
 
উদ্যোক্তাদের একজন কাইয়ুম খান চৌধুরী বলেন, "রাস্তার এই অবস্থার কারণে অসুস্থ রোগী ও শিশুদের নিয়ে চলাফেরা
করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। সরকারি উদ্যোগের অপেক্ষায় না থেকে আমরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করেছি।"
টেকসই সমাধানের দাবি
 
যুবকদের এই কাজকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল। তবে তারা বলছেন, স্বেচ্ছাশ্রমে যে কাজ হয়েছে তা সাময়িক। ভারী বৃষ্টি হলে রাস্তাটি আবার আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারে।
এলাকার বাসিন্দারা জানান, জরুরি রোগী পরিবহনের ক্ষেত্রে বিকল্প দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সড়কটির টেকসই সমাধানের জন্য দ্রুত সরকারি উদ্যোগে পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন অবিলম্বে জনস্বার্থে সড়কটি আধুনিকায়নে পদক্ষেপ নেন, এটাই এখন এলাকাবাসীর প্রত্যাশা।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ