ঢাকা , শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬ , ২০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাইকিং ছাড়াই ‘গোপন’ নিলামের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৪-০৩ ১৪:০৯:২৩
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাইকিং ছাড়াই ‘গোপন’ নিলামের অভিযোগ কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাইকিং ছাড়াই ‘গোপন’ নিলামের অভিযোগ
 
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
 
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নতুন ভবন নির্মাণকে কেন্দ্র করে সরকারি গাছ বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মাইকিং ছাড়াই গোপনে নিলাম আয়োজন, নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে বেশি গাছ কাটা এবং পছন্দের ব্যক্তিকে গাছ বিক্রির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগের তীর কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আরিফুল ইসলামের দিকে।
 
স্থানীয়দের দাবি, নিলামের কোনো প্রচার না করে তড়িঘড়ি করে ঈদের ছুটির আগে গোপনে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। যদিও নিলাম বিজ্ঞপ্তিতে স্থান উল্লেখ ছিল কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিস চত্বর, বাস্তবে নিলাম হয়েছে জেলা শহরের এসিল্যান্ড কার্যালয়ে।
 
নথিপত্র অনুযায়ী, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি গাছ কাটার জন্য নিলাম সভার আহ্বান করা হয়। সেখানে উল্লেখ ছিল মোট ২১টি গাছ কাটার প্রয়োজন—এর মধ্যে ছিল আম, কাঁঠাল, চাগুয়া, শিশব ও ১৭টি মেহগনি গাছ।
 
পরবর্তীতে ১৫ মার্চ, ঈদের ছুটির দুই দিন আগে, নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। এতে তিনজন দরদাতার অংশগ্রহণে মো. নুর আলম নামের এক ব্যক্তির কাছে ১ লাখ ১২ হাজার টাকায় গাছগুলো বিক্রি করা হয়।
 
তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্ধারিত ২১টির পরিবর্তে কাটা হয়েছে প্রায় ২৮টি গাছ—যার মধ্যে বড় ও মাঝারি আকারের গাছও রয়েছে।
 
কাঁঠালবাড়ি বাজার সমিতির এক নেতা জানান, “নির্ধারিত স্থানে নিলাম হয়নি। আমরা কেউ জানিই না কখন নিলাম হলো। এটা স্পষ্টভাবে গোপন নিলাম।”
 
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ সাদেকুল ইসলাম মিলনের অভিযোগ, সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি টাকা লেনদেন হয়েছে। তার দাবি, “সরকারি রেট ছিল ১ লাখ ১ হাজার ৪১০ টাকা, কিন্তু গাছ বিক্রি হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার টাকায়। এর বাইরে আরও প্রায় আড়াই লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।”
 
ঈদের ছুটিতে গাছ কাটা, উপস্থিত ছিলেন না কর্মকর্তা: সরেজমিনে দেখা গেছে, ঈদের ছুটির সময় গাছগুলো কাটা হয়। এ সময় ভূমি অফিসের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম।
 
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আশরাফুল হক বলেন, “নিলাম গোপনে হয়েছে, গাছ বেশি কাটা হয়েছে—আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত চাই। এসব গাছের বাজারমূল্য আরও বেশি।”
 
 
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী জুল জালাল বলেন, “লে-আউটের প্রয়োজনে অনুমতি নিয়ে ১-২টি গাছ বেশি কাটা হয়েছে। ভবনের কাজ চলমান, প্রয়োজনে আরও কয়েকটি গাছ কাটতে হতে পারে।”
 
অভিযোগ অস্বীকার করে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আরিফুল ইসলাম বলেন, নিয়ম মাফিক টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। একটি মহল অনৈতিক সুবিধা না পেয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। 
 
ঈদের ছুটিতে গাছ কাটার বিষয়ে তিনি বলেন, “বরাদ্দের টাকা ফেরত যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। তাই দ্রুত কাজ শুরু করা হয়েছে।”
 
অতিরিক্ত গাছ কাটার বিষয়ে তিনি বলেন, “২১টি গাছেরই নিলাম হয়েছে। হয়তো ১-২টি ছোট গাছ বেশি কাটা হয়েছে।”
 
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ ইসমাইল হোসেনকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। 
 
প্রশ্নের মুখে স্বচ্ছতা: নিলাম প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, নির্ধারিত স্থানের বাইরে আয়োজন এবং অতিরিক্ত গাছ কাটার অভিযোগে প্রশ্ন উঠেছে পুরো কার্যক্রম নিয়ে। এ ঘটনায় তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে স্থানীয়দের মধ্যে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ