ঢাকা , বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬ , ১৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কর্ণফুলীতে দেশের প্রথম ক্যাবল-স্টেইড সেতু ১৬৫০ কোটি টাকার ‘চন্দ্রঘোনা সেতু’ বদলে দেবে পার্বত্য জনপদের যোগাযোগ ও অর্থনীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৪-০১ ০১:৪৪:০১
কর্ণফুলীতে দেশের প্রথম ক্যাবল-স্টেইড সেতু ১৬৫০ কোটি টাকার ‘চন্দ্রঘোনা সেতু’ বদলে দেবে পার্বত্য জনপদের যোগাযোগ ও অর্থনীতি কর্ণফুলীতে দেশের প্রথম ক্যাবল-স্টেইড সেতু ১৬৫০ কোটি টাকার ‘চন্দ্রঘোনা সেতু’ বদলে দেবে পার্বত্য জনপদের যোগাযোগ ও অর্থনীতি
 
 
রাজস্থলী (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধিঃ
মোঃআইয়ুব চৌধুরী
 
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে কর্ণফুলী নদীর ওপর নির্মিত হতে যাচ্ছে দেশের প্রথম ক্যাবল-স্টেইড সেতু ‘চন্দ্রঘোনা সেতু’। প্রায় ১,৬৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই ও চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়াকে সংযুক্ত করে এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর।
 
 
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সেতুটির বিস্তারিত নকশা ও উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) ইতোমধ্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। গত ৯ মার্চ প্রকল্প যাচাই কমিটির সভায় এটি অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়। আসন্ন একনেক সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন মিললে দ্রুতই দরপত্র আহ্বান ও নির্মাণকাজ শুরু হবে।
 
 
প্রকল্পের মূল বৈশিষ্ট্য
মোট ব্যয়: ১,৬৫০ কোটি টাকা
মূল সেতু: ৫৩২ মিটার দীর্ঘ ক্যাবল-স্টেইড কাঠামো
ভায়াডাক্ট: ৪৫৫ মিটার
এলিভেটেড সড়ক: ৫১১ মিটার
বাস্তবায়নকাল: ১ জুলাই ২০২৬ – ৩০ জুন ২০৩১
কৌশলগত গুরুত্ব ও সম্ভাবনা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সেতু শুধু একটি অবকাঠামো নয়—এটি পার্বত্য অঞ্চলের অর্থনৈতিক গতিপথ পাল্টে দিতে পারে। বর্তমানে কাপ্তাই-রাঙ্গুনিয়া অংশে নদী পারাপারের জন্য সীমিত নৌযান নির্ভরতা রয়েছে, যা সময়সাপেক্ষ ও ঝুঁকিপূর্ণ। সেতুটি চালু হলে-রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও চট্টগ্রামের মধ্যে সরাসরি ও দ্রুত সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে পর্যটন শিল্পে নতুন গতি আসবে, বিশেষ করে কাপ্তাই লেক ও পার্বত্য এলাকার দর্শনীয় স্থানে পর্যটকের চাপ বাড়বে কৃষিপণ্য ও বনজ সম্পদ পরিবহন সহজ হবে, ফলে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়বে, নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হবে আধুনিক প্রকৌশল নকশা ক্যাবল-স্টেইড প্রযুক্তির মাধ্যমে নির্মিত এই সেতুতে উচ্চ ক্ষমতার স্টিল কেবল ব্যবহার করা হবে, যা দীর্ঘ স্প্যানের জন্য উপযোগী এবং ভূমিকম্প সহনশীল। এতে নদীর প্রবাহে কম বাধা সৃষ্টি হবে এবং নৌ চলাচলও নির্বিঘ্ন থাকবে। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা
 
 
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বহু বছর ধরে এই অঞ্চলে একটি স্থায়ী সেতুর দাবি ছিল। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি সেবায় দ্রুত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে দুর্গম পার্বত্য এলাকায় জীবনমান উন্নয়নে এটি বড় ভূমিকা রাখবে। 
 
 
সরকারের উন্নয়ন অগ্রাধিকারে নতুন মাইলফলক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সরকারের বৃহৎ অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। দেশের প্রথম ক্যাবল-স্টেইড সেতু হিসেবে এটি প্রযুক্তিগত ও নান্দনিক দিক থেকেও একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। একনেকের চূড়ান্ত অনুমোদনের পরই শুরু হবে স্বপ্নের ‘চন্দ্রঘোনা সেতু’র নির্মাণকাজ-যা পার্বত্য চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থায় যোগ করবে এক নতুন অধ্যায়।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ