ঢাকা , রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬ , ১৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

​কালীগঞ্জে শিক্ষা কর্মকর্তার অফিসে ঢুকে হুমকি ও ঘুষের চেষ্টা, প্রধান শিক্ষককে জুতাপেটা

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৩-২৮ ২৩:২১:০৬
​কালীগঞ্জে শিক্ষা কর্মকর্তার অফিসে ঢুকে হুমকি ও ঘুষের চেষ্টা, প্রধান শিক্ষককে জুতাপেটা ​কালীগঞ্জে শিক্ষা কর্মকর্তার অফিসে ঢুকে হুমকি ও ঘুষের চেষ্টা, প্রধান শিক্ষককে জুতাপেটা

কালীগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধিঃ 

দুর্নীতি ও নাশকতা মামলার আসামি হওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বর্ধিত বকেয়া বেতনের কাগজে সই না করায় ক্ষিপ্ত হয়ে জামায়াত নেতার নাম ভাঙিয়ে শিক্ষা কর্মকর্তার অফিসে ঢুকে হুমকি ও ঘুষ দিতে গিয়ে শফিকুল ইসলাম নামে এক প্রধান শিক্ষককে জুতা পেটা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিষয়টি নিয়ে সংসদ সদস্য হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাশারের অফিসে যেয়ে নিজের অপকর্ম ঢাকতে কেঁদে,কেটে মিথ্যা অভিযোগ করায় উল্টো অফিস থেকে থানা আওয়ামী লীগের নেতা ও সাবেক যুবলীগের আহ্বায়ক নামধারী কালিগঞ্জ আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাশকতা মামলার আসামি শফিকুল ইসলামকে বিতাড়িত করা হয়।


তবে গত ১৩/৬/২৫ ইং তারিখে কালীগঞ্জ থানায় দায়ের করা নাশকতা ৯ নং মামলায় তাকে  গত ২১/১২/২৫ ইং তারিখে পুলিশের হাতে আটক হয়ে  জেল হাজতে পাঠায়। জেলহাজত থেকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে থেকে গত ৬ জানুয়ারি জামিন লাভ করে। এরপরও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী নাশকতা ও সহিংসতা মামলায় জড়িত কোন শিক্ষক জড়িত ও মামলায় জেলে গেলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশনা থাকলেও বরখাস্ত না করায় নানান আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে অত্র বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিরুদ্ধে।

 সোমবার গত ১৬ মার্চ বিকাল ৩ টার দিকে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক (ভারপ্রাপ্ত) শিক্ষা কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীনের অফিস কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনার সত্যতা জানার জন্য প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের ব্যবহৃত নং ০১৭১৮৭৪২৪৬৮ নং মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। এর আগেও তার বিরুদ্ধে স্কুলে না এসে দলীয় কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত থাকা, অর্ধকোটি টাকার নিয়োগ, ঘুষ বাণিজ্য, নানাবিধ অনিয়ম-দূর্নীতির অভিযোগে স্কুলের শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, এলাকাবাসী অভিযোগ সহ প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের  অপসারণের দাবিতে শ্যামনগর- কালীগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। ঐ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে সেনাবাহিনী, পুলিশ বিজেপি, মোতায়েন করা হয়।

 এ কারণে দীর্ঘদিন ঐ প্রধান শিক্ষক এলাকা ছেড়ে পলাতক ছিল। পরে অত্র বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে ভুক্তভোগী শিক্ষকদের নিকট ক্ষমা চেয়ে পুনরায় স্কুলে যাতায়াত শুরু করে। উপজেলা (ভারপ্রাপ্ত) মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন সাংবাদিকদের জানান আমি ১৯৯৮ সাল হতে ২০০৬ সাল পর্যন্ত কালীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। 

২০০০ সালে প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম তার মায়ের নিকট থেকে  ১ বিঘা জমি ক্রয় করে কালীগঞ্জ আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় (প্রস্তাবিত) প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ঐ সময় আমি ঐ বিদ্যালয়ের নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি এবং প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে শিক্ষকগণের নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।

২০১০ সালে নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এমপিও লাভ করে। এর আগে একাধিক শিক্ষকের নিকট থেকে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা নিয়োগের জন্য ডোনেশনের নামে উৎকোচ গ্রহণ করে। বিষয়টি নিয়ে  শিক্ষকরা জেলা প্রশাসকের নিকট অভিযোগ দায়ের করলে গোপনে টাকা দেওয়ার আশ্বাসে অভিযোগ প্রত্যাহার করাইয়া নিয়ে সে যাত্রায় রেহাই পায়। ২০০৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি কাকশিয়ালী গ্রামের হারেজ বিশ্বাসের পুত্র জালাল উদ্দিনকে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেন। জালাল উদ্দিনকে নিয়োগ প্রদানের সময় তার নিকট থেকে ডোনেশনের নামে ৮ লক্ষ এবং এমপি ভুক্তির নামে পৃথক ভাবে আরো ২ লক্ষ টাকা প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম ঘুষ গ্রহণ করলেও তার এমপি-ভুক্তির কাগজ আজও পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ে না পাঠিয়ে অতিরিক্ত আরও ২ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করায় বর্তমানে  এই অরজাকতা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এরমধ্যে বেতন না পেয়েও শিক্ষক জালাল ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ঘুষ প্রদান করেছে প্রধান শিক্ষক শফিকুলের নিকট। মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরো জানান তিনি ২০০৬ সালে কালিগঞ্জ ছেড়ে বদলি হয়ে বর্তমান কলারোয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কালিগঞ্জ উপজেলায় শিক্ষা কর্মকর্তা না থাকায় গত ৭/৪/২৫ ইং তারিখ হতে অতিরিক্ত দায়িত্বে কালিগঞ্জ উপজেলায় দায়িত্ব পালন করছেন। কালিগঞ্জ আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় গত ৬/৭/২২ ইং তারিখে মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে এমপিওভুক্ত লাভ করে। প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামে তার প্রধান শিক্ষকের বর্ধিত বকেয়া বেতন ভাতা দাবি করলেও সহকারী প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দিন ঘুষের টাকা না দিতে পারায় দীর্ঘ ২৪ বছর বিনা বেতনে চাকরি করে অভুক্ত জীবনযাপন করছেন ।

বর্তমান সরকারি প্রধান শিক্ষক জালালকে বাড়ি পাঠিয়ে অন্য লোক নিয়োগের পায়তারায় লিপ্ত প্রধান শিক্ষক শফিকুল। এর আগে  প্রধান শিক্ষক শফিকুলের বর্ধিত বেতনের কাগজপত্র মাধ্যমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ৩ বার পাঠালেও ত্রুটির কারণে ফেরত আসে। বিষয়টি নিয়ে জালাল উদ্দিনকে দায়ী করে পুনরায় তৎকালীন অএ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির  সাবেক সভাপতি  যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আকরাম হোসেনকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে পুনরায় কাগজপত্র পাঠালেও ত্রুটি থাকায় আবারো ফেরত আসে। পুনরায় প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের কাগজপত্র স্বাক্ষর করার জন্য অত্র বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট পাঠালে তিনি সহকারী প্রধান শিক্ষক জালালের  এমপিও ভুক্তির  জন্য কাগজপত্র এ পর্যন্ত কেন পাঠানো হয়নি এবং তা পাঠানোর নির্দেশ দেন নতুবা তার কাগজপত্র পাঠানো হবে না বলে জানিয়ে দেন।


এরপর খুলনা বিভাগীয় শিক্ষা অফিসের পিয়ন শরীফ প্রধান শিক্ষক শফিকুলের ফাইল পাঠাতে আমাকে হুমকি দেন। আমি বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুজ্জামান স্যারকে বিস্তারিত ঘটনা জানালে তিনি সহকারী প্রধান শিক্ষক জালালের কাগজ না পাঠালে তারটা পাঠাতে নিষেধ করেন।এতে সে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১৩  মার্চ আমাকে জামায়াত নেতাদের নাম করে মোবাইলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ হুমকি দেন। গত ১৬ মার্চ প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম আমার সঙ্গে দেখা করার কথা বলে তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন লোক নিয়ে বেলা আনুমানিক ৩ টার দিকে আমার অফিসে আসে। এসে জামায়াতের এমপি এবং নেতাদের নাম করে ফাইল কেন পাঠানো হয়নি কৈফিয়ৎ চেয়ে আমাকে হুমকি ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারতে উদ্যত হয়। তখন আমি নিজেকে রক্ষা করার জন্য আমি এবং আমার কর্মচারীরা তাকে জুতাপেটা করে অফিস থেকে বাহির করে দেই। পরে সেখান থেকে সংসদ সদস্য মহোদয়ের নিকট তার অফিসে গিয়ে আমার বিরুদ্ধে নালিশ করলে আমি বিষয়টি খুলে বললে তাকে অফিস থেকে বাহির করে দেয় বলে জানান।

বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও অত্র বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি তানিয়া আক্তার অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি থাকার সুযোগে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মইনুল হাসান খানের  নিকট‌ গত বৃহস্পতিবার আবারও তার বেতনের কাগজে স্বাক্ষর করানোর জন্য গেলেও ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসে বলে জানা গেছে।

 নাশকতা মামলার জেল খাটা আসামি হয়েও তাকে কেন সাময়িক বরখাস্ত করা হয়নি এ বিষয়ে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার ( ভূমি) মইনুল ইসলাম খানের ব্যবহৃত ০১৭০৯৩১৯৭৪৬ নং মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। অথচ একই ঘটনায় একই তারিখে জামিল লাভ করা অফার আসামি নলতা প্রাথমিক বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক আনারুল ইসলামকে সাথে সাথে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ