আব্দুল্লাহ আল মামুন, যশোরঃ-
যশোরের মণিরামপুর উপজেলা-এ চাঞ্চল্যকর যুবক আরিফ হোসেন (১৯) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আরিফের সৎ বাবা সোহেল মাহমুদ (৩৬) ও তার সহযোগী ফুয়াদ হাসান সৌরভ (২৬)কে গ্রেফতার করেছে যশোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মংলা থানা এলাকার শেখ আব্দুল হাই সড়কের হোটেল হাজী শেখ আব্দুস সালাম ইন্টারন্যাশনাল-এর তৃতীয় তলার ৭ নম্বর কক্ষ থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেলে গ্রেফতার আসামিদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে একটি মাছের ঘের থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।
তদন্তে জানা গেছে, গ্রেফতার সোহেল মাহমুদ উপজেলার দক্ষিণ বালিধা গ্রামের জামাল গাজীর ছেলে এবং নিহত আরিফ হোসেনের প্রবাসী মায়ের দ্বিতীয় স্বামী। অপর গ্রেফতার ফুয়াদ হাসান সৌরভ পাচাকড়ি গ্রামের আশরাফ সরদারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত আরিফের মা ও তার বাবা বালিধা গ্রামের গরু ব্যবসায়ী আতিয়ার রহমানের মধ্যে পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রায় ১০-১২ বছর আগে আরিফের মায়ের সঙ্গে সোহেল মাহমুদের বিয়ে হয়। তবে প্রায় এক বছরের মধ্যেই তাদের বিচ্ছেদ ঘটে এবং পরে আরিফের মা বিদেশে চলে যান। ওই ক্ষোভ থেকেই আরিফকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে ধারণা করছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয়দের তথ্যমতে, গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে বালিধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বসে মোবাইল ফোন ব্যবহার করার সময় কৌশলে আরিফকে ডেকে বালিধা বৈরাগীর মোড় এলাকার আনোয়ার ফকিরের মাছের ঘেরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রথমে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং পরে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ ঘেরের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়।
পরদিন রবিবার (১ মার্চ) ভোরে স্থানীয়রা ঘেরের পানিতে লাশ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দিলে মণিরামপুর থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে আরিফের তিন বন্ধুকে প্রথমে হেফাজতে নেয় পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্য ও চলমান তদন্তের ভিত্তিতে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী সোহেল মাহমুদ ও তার সহযোগী ফুয়াদ হাসান সৌরভকে গ্রেফতার করা হয়।
রজিউল্লাহ খান জানান, নিহত আরিফের বোন জুলিয়া আক্তার বাদী হয়ে মণিরামপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।