ঢাকা , সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬ , ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২ মার্চ জাতীয় পতাকা দিবস সরকারি ভাবে পালন করা উচিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৩-০৩ ১৯:৪৬:৫২
২ মার্চ জাতীয় পতাকা দিবস সরকারি ভাবে পালন করা উচিত ২ মার্চ জাতীয় পতাকা দিবস সরকারি ভাবে পালন করা উচিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯৭১ সালের ১ মার্চ ইয়াহিয়া খান কতৃক জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলার সমাবেশ জনসমুদ্রে পরিণত হয়। এ সমাবেশে ডাকসু’র ভিপি আ স ম আবদুর রব যখন বক্তৃতা করছিলেন, তখন মহানগর ছাত্রলীগ সাধারন সম্পাদক শেখ জাহিদ হোসেন একটি বাঁশের মাথায় লাল সবুজের পতাকা বেঁধে রোকেয়া হলের দিক থেকে মঞ্চস্থলে বিশাল মিছিল নিয়ে প্রবেশ করেন। তৎকালীন ডাকসু’র ভিপি আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত সবুজ রং আমাদের সুজলা-সুফলা বাংলাদেশ ও তারুণ্যের প্রতীক, আর লাল বর্ণ শহীদদের রক্তে রঞ্জিত বাংলাদেশ ও আত্মত্যাগের প্রতিফলনের প্রথম বাংলাদেশের এই পতাকা উত্তোলন করেন।

২ মার্চ ১৯৭১ বাঙালি জাতির জীবনে একটি ঐতিহাসিক দিন। এ দিন বাংলাদেশের মানচিত্র অঙ্কিত হাজার বছরের লালিত স্বপ্নের পতাকা উত্তোলিত হয় আর বাঙালি জাতির "স্বাধীন রাষ্ট্রের" অস্তিত্বের আত্মপ্রকাশ ঘটে।

 
পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর আতঙ্ক স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্রসেনানী ছাত্রসমাজ পতাকা উত্তোলনের মাহেন্দ্রক্ষণের অংশীদার। বাঙালির স্বাধীনতার দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের যে কয়টি অবিস্মরণীয় ঐতিহাসিক ঘটনা; তারমধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে পতাকা উত্তোলন।
 

১৯৭০ সালের ৬ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ১১৮ নম্বর কক্ষে নিউক্লিয়াসের প্রতিষ্ঠাতা সিরাজুল আলম খান, আব্দুর রাজ্জাক ও কাজী আরেফ আহমেদ ছাত্রলীগ নেতা আসম আবদুর রব, শাহজাহান সিরাজ, মার্শাল মনিরুল ইসলাম, স্বপন কুমার চৌধুরী, ইউসুফ সালাউদ্দিন, কামরুল আলম খান খসরু, জগন্নাথ কলেজ ছাত্রলীগ নেতা নজরুল ইসলাম প্রমুখসহ পতাকার পরিকল্পনা নিয়ে বৈঠকে বসেন। বৈঠকে সিরাজুল আলম খানের প্রস্তাবনায় সবুজ জমিনের ওপর লাল সূর্যের মাঝে হলুদ রঙের বাংলার মানচিত্র খচিত পতাকা তৈরির সিদ্ধান্ত হয়। কামরুল আলম খান খসরু তখন ঢাকা নিউমার্কেটের এক বিহারি দরজির দোকান থেকে বড় এক টুকরো সবুজ কাপড়ের মাঝে লাল একটি বৃত্ত সেলাই করে আনেন।


এরপর প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের তিতুমীর হলের ৩১২ নম্বর কক্ষের এনামুল হকের কাছ থেকে অ্যাটলাস নিয়ে ট্রেসিং পেপারে আঁকা হলো স্বাধীন বাংলার মানচিত্র। ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নেতা কুমিল্লার শিব নারায়ণ দাস পরিশেষে নিপুণ হাতে মানচিত্রটি এঁকে দেন লাল বৃত্তের মাঝে।


৭ জুন ১৯৭০ পল্টনে অনুষ্ঠিত কুচঁকাওয়াজের নেতৃত্ব প্রদান করেন আ স ম আবদুর রব, তিনি সেই পতাকা বঙ্গবন্ধুর হাতে তুলে দেন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেই পতাকা ছাত্র-জনতার সামনে তুলে ধরেন।


পতাকা উত্তোলন সশস্ত্র যুদ্ধকে অনিবার্য এবং আবশ্যক করে তুলে এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের সামরিক ও রাজনৈতিক পরিকল্পনায় এক নতুন মাত্রা যোগ করে।

 
তৎকালীন ইকবাল হলের ১১৬ নম্বর কক্ষে বসেই সিরাজুল আলম খান সহ নিউক্লিয়াস নেতৃবৃন্দ স্বাধীনতার ইশতেহার প্রণয়ন করেন।


আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা, জাতীয় সংগীত, জাতীয় পতাকা নির্ধারণ, জয়বাংলা স্লোগান ও আন্দোলনের কর্মসূচিসহ বঙ্গবন্ধুকে বাংলাদেশের সর্বাধিনায়ক ঘোষণা করে ইশতেহার চূড়ান্ত করা হয়।

 
৩ মার্চ পল্টন ময়দানে স্বাধীনতাকামী ছাত্র-জনতার বিশাল সমাবেশে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান সিরাজ ‘স্বাধীনতার ইশতেহার’ পাঠ করেন। অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার পক্ষের চার ছাত্রনেতা আ স ম আবদুর রব, নূরে আলম সিদ্দিকী, শাহজাহান সিরাজ এবং আব্দুল কুদ্দুস মাখন শপথ বাক্য পাঠ করেন।

 
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ছিলো রাজনৈতিক “জনযুদ্ধ”। যারা এ সম্পর্কে অবহিত নয়; তারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বদলে দিতে পারে না।

১৯৬২ সাল থেকে সিরাজুল আলম খান এর নেতৃত্বে অপ্রকাশ্যে স্বাধীনতার জন্য যে আন্দোলন সংগ্রাম পরিচালনা, জাতির মনন প্রস্তুত করা, ছাত্র-যুবকদের সশস্ত্র যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করা, অস্ত্র সংগ্রহ, ‘জয় বাংলা বাহিনী’ গঠন, স্বাধীন বাংলার মানচিত্র খচিত পতাকা ২ মার্চ উত্তোলন, ৩ মার্চ বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতিতেই স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ ও ৭মার্চের বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ সবই অগ্নিঝরা মার্চের কীর্তি।






 

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ