ঢাকা , শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬ , ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুশিয়ারায় ফেরিঘাট নির্মাণ উদ্বোধন করলেন মালিক

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০২-২৭ ১৩:২৩:৫৩
কুশিয়ারায় ফেরিঘাট নির্মাণ উদ্বোধন করলেন মালিক কুশিয়ারায় ফেরিঘাট নির্মাণ উদ্বোধন করলেন মালিক

সাইদুল ইসলাম,বালাগঞ্জ (সিলেট) ক্রাইম রিপোর্টার ::

সিলেটে বালাগঞ্জে কুশিয়ারা নদীতে সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের হলেও তা বাস্তবায়নে দীর্ঘ সূত্রিতার কারণে প্রাথমিকভাবে ফেরি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। ফেরিঘাট নির্মাণের লক্ষ্যে বালাগঞ্জ অংশে দুই কোটি ও রাজনগর অংশে এক কোটি ত্রিশ লাখ টাকার দুটি প্রকল্প অনুমোদন হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে বালাগঞ্জ প্রান্তে ফেরিঘাট স্থাপন কাজের উদ্বোধন করেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সিলেট-৩ আসনের এমপি এমএ মালিক। এসময় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, ফেরি বিভাগের কর্মকর্তা, সওজ সিলেট বিভাগীয় কর্মকর্তাসহ সিলেট ও মৌলভীবাজারের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ২৪ জানুয়ারি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের একপত্রে উল্লেখ করা হয়- মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলা ও সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলা জেড-২০১৭ সড়কের ১৭তম কিলোমিটারে কুশিয়ারা নদীর উপর সড়ক ও জনপথের আওতাধীন একটি নতুন ফেরিঘাট স্থাপনের নিমিত্তে প্রশাসনিক অনুমোদন নির্দেশক্রমে প্রজ্ঞাপন জারি করা হলো। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব টিনা পাল স্বাক্ষরিত পত্রে সড়ক ও জনপথের প্রধান প্রকৌশলীকে এআদেশ দেয়া হয়। এই আদেশের পর দীর্ঘদিন পেরিয়ে যায়।

 অবশেষে দীর্ঘ বিলম্বের পর ফেরি সার্ভিস চালুর লক্ষ্যে ৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে বালাগঞ্জ বাজার এলাকায় মুইস গেইটের নিকটে ও রাজনগর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের খেয়াঘাট বাজারের নিকটে তুলাপুর গ্রাম এলাকায় প্রস্তাবিত ফেরি ঘাটের স্থান ঘুরে দেখেন সওজ মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী কায়সার হামিদসহ সড়ক ও সেতু বিভাগের কর্মকর্তারা। ওই সময়ে সরজমিন পরিদশনকালে সওজ'র নির্বাহী প্রকৌশলী কায়সার হামিদ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ফেরি সার্ভিস চালুর জন্য পাঠানো প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদন হলেই টেন্ডার পক্রিয়া সম্পন্ন করে কাজ শুরু করা হবে, এতে প্রায় মাস দেড়েক সময় লাগবে।

জানা গেছে, ২০০১ সালে বিএনপি মতায় আসার পর মৌলভীবাজার-৩ আসন থেকে নির্বাচিত এমপি এম সাইফুর রহমান অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী হন। সরকারের শেষ দিকে এসে কুশিয়ারা নদীতে একটি সেতু নির্মাণের দাবি উঠে। এম সাইফুর রহমান আশ্বাস দিলেও বিএনপি মতা হারায়। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও সেতুর দাবি জোরালো হয়ে ওঠে। এ নিয়ে জাতীয় সংসদে উভয় এলাকার এমপিরা দাবি উত্থাপন করেন। বারবার আশ্বাস ও সমীা হলেও সেতু নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। রাজনৈতিক নেতাদের মুখ থেকে শুধু আশ্বাস শুনতে হ"েছ প্রায় তিন দশক ধরে।

সরজমিন গিয়ে দেখা গেছে, দুই উপজেলার মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে খরস্রোতা কুশিয়ারা নদী। এই নদী পাড়ি দিয়েই প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষকে চলাচল করতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে নদীতে সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসলেও সুফল পাচ্ছেন না এলাকাবাসী। তাই যুগের পর যুগ ধরে নদী পারাপারে খেয়া নৌকাই একমাত্র ভরসা। বালাগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর ওপরে যত দ্রুত সেতু নির্মাণ করা হবে,তত দ্রুত পাল্টে যাবে এখানকার মানুষের জীবনমান। একটি সেতুতে আটকে আছে দুই উপজেলার মানুষের নাগরিক সুবিধাগুলো।

যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে এখানকার মানুষের ভাগ্যের চাকা বদলে যাবে। সেতু নির্মাণ হলে সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলা ও মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলবাসীর শিা, বাসস্থান, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সব কিছুর উন্নয়ন সাধিত হবে। সেতু না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহা"েছন দুই উপজেলার কয়েক লক্ষাধিক মানুষ। আর এই সেতুটি নির্মিত হলে বালাগঞ্জ ও রাজনগর উপজেলার মধ্যে সরাসরি 'সেতু বন্ধন' এর দ্বার উন্মোচিত হবে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রাজনগর উপজেলার ফতেহপুর, উত্তরভাগ, পাঁচগাঁও, মুন্সিবাজার, রাজনগর সদর ইউনিয়নসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগ বালাগঞ্জের দিকে। তেমনি বালাগঞ্জের মানুষেরও রাজনগরের দিকে যোগাযোগ রয়েছে। রাজনগরের স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা নদী পার হয়ে বালাগঞ্জের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়ালেখা করে আসছে। কিন্ সেতু বা ফেরি না থাকায় দুর্ভোগ চরম ধারণ করেছে। আপাতত একটা ফেরি হলেও দুর্ভোগ লাঘব হবে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ