ওসির সামনেই সেকেন্ড অফিসারকে ‘দুর্নীতিবাজ’ আখ্যা দিলেন হাসনাত
নিজস্ব প্রতিবেদক
কুমিল্লার দেবিদ্বারে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সামনেই থানার অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি ও দালাল সিন্ডিকেট নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়লেন কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি সরাসরি থানার সেকেন্ড অফিসারকে ‘পুরোপুরি দুর্নীতিবাজ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ওসিকে থানা দালালমুক্ত করার কড়া নির্দেশ দেন।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদের হলরুমে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় উপস্থিত দেবিদ্বার থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামানের সামনেই দেবিদ্বার থানার সেকেন্ড অফিসার মতিনকে করাপ্টেড এবং দালাল সিন্ডিকেটসহ তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ তোলেন হাসনাত আবদুল্লাহ।
ওসিকে উদ্দেশ্য করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ওসি আন্তরিক থাকলেও ওনার অফিসাররা আন্তরিক না। আর ওনার সেকেন্ড অফিসার হচ্ছেন ফুললি করাপ্টেড। টাকা ছাড়া ওনার কোনো পা চলে না। আরেকজন হচ্ছেন এসআই ভবতোষ। টাকা ছাড়া উনি এক পাও মুভ করেন না। আপনি কাউকে ধরতে যাবেন, উনি থানা থেকে ফোন দিয়ে বলে দিলেন, আমরা আসতেছি। তাইলে তো এখানে একটা ফিলোসোফিং চোর-পুলিশ খেলা হয়।
ক থানার কার্যক্রম নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলে বক্তব্য দিয়েছেন হাসনাত আবদুল্লাহ। সভায় উপস্থিত থেকে তিনি সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) উদ্দেশ করে বলেন, থানা পরিচালনায় বাহিরের এক ব্যক্তির প্রভাব রয়েছে।
হাসনাত আবদুল্লাহর দাবি, আপনার থানা আপনি চালান না, আপনার থানা চালায় হেলাল। আমি তথ্যভিত্তিক কথা বলছি। না জেনে কিছু বলছি না। তিনি অভিযোগ করেন, ওই ব্যক্তি কোনো সরকারি দায়িত্বে না থেকেও থানার কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করছেন।
তিনি আরও বলেন, থানায় কোন মামলা রুজু হবে, কোনটি এজাহারভুক্ত হবে—এসব বিষয়েও কথিতভাবে ওই ব্যক্তির মৌখিক অনুমোদন নেওয়া হয়। থানা যদি এমন একজন চালায়, যে পুলিশ সদস্য নয়, যার এখানে কোনো চাকরি নেই, তাহলে সেটা খুবই উদ্বেগজনক, বলেন তিনি।
হাসনাত আবদুল্লাহর ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণ ভুক্তভোগীরা সহজে থানায় যেতে সাহস পান না। তিনি বলেন, আমি যত সহজে আপনার কাছে যেতে পারি, একজন গ্রামের সাধারণ মানুষ তত সহজে পারে না। তাদের মধ্যে একটা ভয় কাজ করে।
পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি উদ্ধারে প্রচেষ্টার প্রশংসা করলেও তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশের কাছে যাওয়ার আগেই এক ধরনের ‘অচাকরিজীবী পুলিশ’ সক্রিয় রয়েছে। তার দাবি, থানায় দালাল ও মাদক সংশ্লিষ্ট একটি চক্র প্রভাব বিস্তার করছে।
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার ওসির কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, এই মিটিংয়ে যারা উপস্থিত আছে তাদের প্রত্যেকের একটা অথরিটি আছে এখানে আসার। কিন্তু হেলাল কোনো ক্রাইটেরিয়াতে আপনার চৌসীমানায় ঘুরে? আপনি সিরিয়াস অ্যাকশন নেবেন। থানাটাকে দালালমুক্ত করবেন। আপনার কাছে পৌঁছাতে হলে যেন স্বাভাবিক প্রক্রিয়া মেনটেইন করেই পৌঁছাতে পারে। এক্ষেত্রে যেন কোনো দালাল না থাকতে পারে। এক্ষেত্রে যেন একটা ইনফরমাল সিন্ডিকেট না থাকতে পারে। আপনার সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক হবে একদম ডিরেক্ট সম্পর্ক। যেটা লিগ্যাল, সে জায়গায় আপনি কো-অপারেট করবেন। যেটা ইলিগেল সেখানে কারো সঙ্গে কো-অপারেট করার দরকার নাই।
ওসিকে অনুরোধ করে হাসনাত বলেন, গত একটা বছর আমি আমার জায়গা থেকে ইনভেস্টিকেট করেছি, সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছি, সিভিল সোসাইটির সঙ্গে কথা বলেছি, আপনি এখানে দালালচক্র দিয়ে ঘিরে আছেন। আমরা চাই আপনাকে কো-অপারেট করতে। আমরা চাই একটা ল এন্ড অর্ডার সিচুয়েশন কার্যকর হোক।
এ সময় দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও রাকিবুল ইসলামের সভাপতিত্বে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।