ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬ , ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​বাংলাদেশে ড. মোহাম্মদ ইউনূস সরকারের ১৮ মাসের সাফল্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০২-২১ ১৪:৪৩:১৪
​বাংলাদেশে ড. মোহাম্মদ ইউনূস সরকারের ১৮ মাসের সাফল্য ​বাংলাদেশে ড. মোহাম্মদ ইউনূস সরকারের ১৮ মাসের সাফল্য
নিজস্ব প্রতিবেদক

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর এক অস্থির সময়ে দেশের হাল ধরেছিলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তার সরকার 'রাষ্ট্র সংস্কার'কে মূল অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ শুরু করে। গত দেড় বছরে প্রশাসন, অর্থনীতি, বিচার বিভাগ এবং কূটনীতিতে বেশ কিছু দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে।

জুলাই চার্টার’ ও সাংবিধানিক সংস্কার
সরকারের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে ‘জুলাই চার্টার’-কে। ৩০টি রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে এই চার্টার প্রণীত হয়েছে, যার লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে কর্তৃত্ববাদ ঠেকাতে সংবিধানে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা। এর অধীনে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ (সিনেট) গঠন এবং প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ
দায়িত্ব নেওয়ার সময় নড়বড়ে অর্থনীতিকে টেনে তুলতে ড. ইউনূস বেশ কিছু সাহসী পদক্ষেপ নেন।

মূল্যস্ফীতি হ্রাস, খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১৪% থেকে কমিয়ে একক সংখ্যায় নামিয়ে আনা হয়েছে।

ব্যাংকিং খাত সংস্কার, সংকটে থাকা ১১টি ব্যাংকের পর্ষদ পুনর্গঠন এবং খেলাপি ঋণ আদায়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, প্রবাসীদের রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠানোর ফলে ডলারের বিপরীতে টাকার মান স্থিতিশীল হয়েছে।

বিচার বিভাগ ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা,
বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করতে সুপ্রিম কোর্টের অধীনে সব আদালতকে নিয়ে আসা হয়েছে। এছাড়া, সরকারি কেনাকাটায় স্বচ্ছতা আনতে ৪২টি মন্ত্রণালয়ে ই-প্রকিউরমেন্ট ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এনবিআর-কে পুনর্গঠন করে রাজস্ব আদায়ের প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে।

কূটনীতি, ড. ইউনূসের ব্যক্তিগত ইমেজ ব্যবহার করে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মহলে হারানো মর্যাদা ফিরে পেয়েছে। কূটনীতি'র মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। 

আন্তর্জাতিক চুক্তি ও সমঝোতা করেন, 
ডঃ মুহাম্মদ ইউনুসের বিশ্বজুড়ে গ্রহণযোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মহলে বড় ধরনের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সাফল্য অর্জন করেছে। সরকারের আমলে সম্পাদিত উল্লেখযোগ্য চুক্তিগুলো হলো:

জাপান-বাংলাদেশ ৬টি MoU, শক্তি, বিনিয়োগ, শিল্প ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ ৫টি MoU, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও ব্যবসায়িক সহযোগিতা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ Reciprocal Trade Agreement, দুই দেশের নির্দিষ্ট পণ্যে শুল্ক সুবিধা ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এই ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

ITFC চুক্তি, সার আমদানি ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য 'ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স কর্পোরেশন' (ITFC) থেকে অর্থায়ন সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।

কাতার-বাংলাদেশ জনবল নিয়োগ চুক্তি, নিরাপত্তা ও সশস্ত্র বাহিনী সংশ্লিষ্ট জনবল নিয়োগে কাতারের সাথে বিশেষ সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

পরিবহন ও শ্রম অধিকার,
ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে সব বাসকে একটি ইউনিফাইড সিস্টেমে আনার কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়া, আইএলও (ILO) কনভেনশন অনুসরণ করে নতুন শ্রম আইন প্রণয়ন করা হয়েছে, যা শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করবে।

বাংলাদেশ সরকারের এত কম সময়ে বিভিন্ন আন্দোলনের মাঝে এতগুলো কাজ করার নজিরবিহীন দিষ্টান্ত রেখে গিয়েছেন।
নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ডাঃ মোহাম্মদ ইউসুফ ।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ