ঢাকা , রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬ , ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​বুড়িচংয়ে সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে নিষিদ্ধ ট্রলি ট্রাক্টর


আপডেট সময় : ২০২৬-০২-২০ ১৪:০৮:১৩
​বুড়িচংয়ে  সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে নিষিদ্ধ ট্রলি ট্রাক্টর ​বুড়িচংয়ে সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে নিষিদ্ধ ট্রলি ট্রাক্টর

মোঃ আবদুল্লাহ বুড়িচং প্রতিনিধি।। 

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলছে নিষিদ্ধ ট্রলি ও ট্রাক্টর। উপজেলার বিভিন্ন সড়ক, গ্রামীণ পথ ও অলিতে-গলিতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এ যানবাহনগুলোর দাপট থামছে না।

এসব যানবাহনের নেই লাইসেন্স, নেই সিগনাল লাইট বা হর্ন। যে কেউ—অদক্ষ শ্রমিক থেকে কিশোর চালক—নির্বিঘ্নে চালাচ্ছে এগুলো। ফলে প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা, যানজট, ধুলা-ধোঁয়া ও শব্দ দূষণ, আর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গ্রামাঞ্চলের কাঁচা-পাকা রাস্তা।

ট্রাক্টর মূলত কৃষিকাজের জন্য বৈধ হলেও বুড়িচংয়ে 
এগুলো এখন পরিণত হয়েছে অবৈধ মালবাহী পরিবহনে। মাটি খেকুরা ও ঠিকাদাররা স্বল্প খরচে ইট, বালু, রড, সিমেন্ট, মাটি, গাছসহ নানান ভারী পণ্য পরিবহনে এসব যান ব্যবহার করছেন।

সরেজমিনে উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে রাস্তার পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা অনুমোদনহীন ট্রলি ও ট্রাক্টরের বহর। তিন ফসলি কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে এসব ট্রলি দিয়ে বিভিন্ন স্থানে পাচারের অভিযোগও মিলেছে।

এ অবস্থায় জনদুর্ভোগ বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। বেপরোয়া গতি, অতিরিক্ত বোঝাই, অনভিজ্ঞ চালকের ভুল, স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের ভীতি—সব মিলিয়ে সড়কে তৈরি হচ্ছে ভয়ংকর পরিস্থিতি।

স্থানীয় সফিক বলেন, “স্কুলে আসা-যাওয়ার সময় এসব গাড়ি সামনে পড়লে বাচ্চারা ভয় পায়। রাস্তা পার হওয়াই কঠিন হয়ে যায়।” অনেক অনুমোদিত পরিবহন মালিকও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কম খরচে ট্রলি-ট্রাক্টর ভাড়া পাওয়া যাওয়ায় তাদের ব্যবসায় লোকসান বাড়ছে। লাইসেন্সবিহীন চালকরা বৈধ পরিবহন ব্যবস্থায় অংশ না নেওয়ায় সরকারেরও রাজস্ব হারাচ্ছে।

এদিকে চালকরাও নিজেদের বেকারত্ব ও দরিদ্রতার যুক্তি দেখাচ্ছেন। ট্রাক্টর চালক মো. রিপন  বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। ট্রেনিং বা লাইসেন্স করার মতো সামর্থ্য নেই। গাড়ি চালিয়ে যেটুকু পাই, তা দিয়েই পরিবার চলে।”

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ অনুযায়ী কৃষি জমিতে ব্যবহৃত ট্রাক্টর সড়কে পণ্য পরিবহন করতে পারবে না। নিবন্ধন ছাড়া, লাইসেন্স ছাড়া বা উপযোগী না হয়েও সড়কে কোনো যানবাহন চালানো সম্পূর্ণ বেআইনি। অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী এ ধরনের চালনা করলে জরিমানা, কারাদণ্ড বা উভয়দণ্ড হতে পারে। আইনটি আরও স্পষ্টভাবে বলছে, অদক্ষ চালকের হাতে যানবাহন দেওয়া জন নিরাপত্তার জন্য উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এবং তা দণ্ডনীয় অপরাধ।

স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, এখনই এসব নিষিদ্ধ যানবাহন নিয়ন্ত্রণে না আনলে অদূর ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়বে। তারা মনে করেন, প্রশাসন চাইলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পারে এবং এ ধরনের অবৈধ যানচলাচল দ্রুত বন্ধ করাও সম্ভব। তাদের প্রত্যাশা, সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন জরুরি পদক্ষেপ নেবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ