ঢাকা , শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ওয়ারিশ সনদ জালিয়াতির মাধ্যমে ১.২০ একর জমি খারিজ করার অভিযোগ


আপডেট সময় : ২০২৬-০১-২৮ ২২:২২:১৪
ওয়ারিশ সনদ জালিয়াতির মাধ্যমে ১.২০ একর জমি খারিজ করার অভিযোগ ওয়ারিশ সনদ জালিয়াতির মাধ্যমে ১.২০ একর জমি খারিজ করার অভিযোগ

মোঃ আকতারু জ্জামান
দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি


পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় ভুয়া ওয়ারিশন সনদের মাধ্যমে ১ দশমিক ২০ একর জমি নিজের নামে খারিজ করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আব্দুল্লাহ মাসুদ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়েছে, জমি খারিজের সময় তিনি তার সৎ মা ও একাধিক ভাই-বোনের নাম ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, দেবীগঞ্জ উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ২০২২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি তারিখে ১১২ নম্বর স্মারকে ইস্যু দেখানো একটি ওয়ারিশন সনদকে কেন্দ্র করে এই বিতর্কের সৃষ্টি হয়। পরে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পরেশ চন্দ্র রায় প্রধান লিখিত প্রত্যয়নে জানান, উক্ত ওয়ারিশন সনদটি তার শপথ গ্রহণের আগের দেখানো হয়েছে এবং এতে থাকা স্বাক্ষর তার নয়। তিনি সনদটিকে ভুয়া দাবি করে বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিংবা ইউনিয়ন পরিষদ অবগত ছিলেন না।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দেবীডুবা ইউনিয়নের সোনাপোতা এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেন মৃত্যুকালে দুই স্ত্রী, সাত মেয়ে ও দুই ছেলে রেখে যান। এছাড়া মানিক নামে এক ছেলে পিতার মৃত্যুর আগেই অবিবাহিত অবস্থায় মারা যান। সে হিসেবে তার মোট বৈধ ওয়ারিশ ১১ জন। কিন্তু বিতর্কিত ওই ওয়ারিশন সনদে মাত্র সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়।

ওই সনদে দ্বিতীয় স্ত্রী মোছাঃ ছকিনা খাতুন, ছেলে মোঃ আব্দুল্লাহ মাসুদ এবং পাঁচ মেয়ের নাম থাকলেও প্রথম স্ত্রী মঞ্জুয়ারা খাতুন, দুই মেয়ে মোছাঃ আনজুমা হাসনেয়ারা ও মোছাঃ ফাতেমা বেগম এবং ছেলে মোঃ মোজাম্মেল হকের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

দেবীডুবা ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য উমাপদ রায় বলেন, “আবুল হোসেনের দুই স্ত্রী ও নয়জন সন্তানসহ মোট ওয়ারিশ ১১ জন। অথচ আলোচিত ওয়ারিশন সনদে মাত্র সাতজনের নাম রয়েছে। এতে কয়েকজন বৈধ ওয়ারিশকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা নিয়মবহির্ভূত।”

অভিযোগ রয়েছে, এই ভুয়া ওয়ারিশন সনদের ভিত্তিতেই আব্দুল্লাহ মাসুদ একই ইউনিয়নের সোনাপোতা ধানপাড়া এলাকার ১ দশমিক ২০ একর জমি নিজের নামে খারিজ করে নেন। এ সংক্রান্ত নামজারি মামলার নম্বর ৩৪০৫ (IX-X)/২০২৪-২০২৫। নামজারির সময় তিনি কেবল নিজের মা ও বোনদের ওয়ারিশ দেখিয়ে ভূমি অফিসে কাগজপত্র দাখিল করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আবুল হোসেনের ছেলে মোঃ মোজাম্মেল হক বলেন, “আমার বাবা দুই স্ত্রী ও নয়জন সন্তান রেখে মারা যান। আমার মা বড় স্ত্রী হলেও তার নাম, আমার নাম ও আমার দুই বোনের নাম ওয়ারিশন সনদে নেই। এই সনদের মাধ্যমে আমাদের পিতৃপরিচয় অস্বীকার করা হয়েছে।”

অভিযোগ প্রসঙ্গে আব্দুল্লাহ মাসুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ওয়ারিশন সনদ ও জমি খারিজের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, “বাদ পড়া ওয়ারিশদের পক্ষ থেকে মিসকেস করা হলে যাচাই-বাছাই শেষে সত্যতা পাওয়া গেলে খারিজ বাতিল করা হবে।”

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ