র্যাবের যৌথ অভিযানে রংপুরের তারাগঞ্জ থানার জোড়া খুনের মামলার আসামি ঢাকা থেকে গ্রেফতার
'বাংলাদেশ আমার অহংকার'- এই মূলমন্ত্রকে বুকে ধারন করে এলিট ফোর্স র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন চাঞ্চল্যকর হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, রাহাজানিসহ মারাত্মক সব সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। হত্যার মতো মারাত্মক অপরাধের ক্ষেত্রে র্যাব অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে থাকে।
বাদীর দায়েরকৃত এজাহার সূত্রে জানা যায় যে, ভিকটিম রুপলাল রবিদাস (৪০) বাদীর স্বামী এবং প্রদীপ লাল (৪৫) সম্পর্কে ভাতিজী জামাই। ইং ০৯/০৮/২০২৫ তারিখ রাতের বেলা ভ্যান নিয়ে রংপুর জেলা, মিঠাপুকুর থানা, সাং- গোপালপুর ছরান বালুয়া থেকে বাদীর বাড়ীতে আসার পথে ঐ দিন রাত ০৮.৩০ ঘটিকায় ০৫ নং সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট বটতলা মোড়ে পৌঁছালে ভিকটিমদ্বয়কে সন্দেহ করে ঐ এলাকার কিছু মানুষ ভিকটিমদ্বয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে ভিকটিমদ্বয়ের সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশী করে ব্যাগের ভিতরে থাকা দুর্গন্ধযুক্ত পানীয় পাওয়া যায়। সেই পানির গন্ধে উপস্থিত কয়েকজন তাৎক্ষনিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা ভিকটিমদ্বয়কে ইং ০৯/০৮/২০২৫ তারিখ রাত ০৯.০০ ঘটিকায় বুড়িরহাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নিয়ে গিয়ে লাঠি-সোটা ও লোহার রড দ্বারা গণপিটুনী দিলে একপর্যায়ে ভিকটিমদ্বয় গুরুতর জখমপ্রাপ্ত হয়।
ভিকটিমের অবস্থা আশংকাজনক দেখে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাদেরকে তারাগঞ্জ উপজেলা স্থাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ভিকটিম রুপলালকে মৃত বলে ঘোষনা করেন এবং ভিকটিম প্রদীপ লালকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রংপুর প্রেরণ করেন। ভিকটিম প্রদীপ লাল ইং ১০/০৮/২০২৫ তারিখ ভোর ০৪.০০ ঘটিকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল,রংপুরে মৃত্যুবরণ করেন। উল্লেখিত ঘটনায় ভিকটিম রুপলাল এর স্ত্রী বাদী হয়ে রংপুর জেলায় তারাগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং ০৪/৯৪, তাং- ১০/০৮/২০২৫, ধারা -৩০২/৩৪ পেনাল কোড-১৮৬০।
ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক হওয়ায় এলাকায় ব্যাপকভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে এবং আসামি গ্রেফতারে সচেষ্ট হয়।
সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৩, সদর কোম্পানী, রংপুর এবং র্যাব-১০, সদর কোম্পানী, কেরাণীগঞ্জ ক্যাম্পের যৌথ আভিযানিক দল ইং ২৪/০১/২০২৬ তারিখ বিকাল ০৪.১০ ঘটিকায় ডিএমপি, ঢাকা শাহবাগ থানাধীন শাহবাগ শহীদ ওসমান হাদী চত্ত্বর এর সামনে অভিযান পরিচালনা করে রংপুর জেলার তারাগঞ্জ থানার জোড়া হত্যা মামলার পলাতক প্রধান আসামি ১। মোঃ মেহেদী হাসান (৩০), পিতা- মোঃ ইছাহাক আলী, সাং- ফরিদাবাদ, থানা- তারাগঞ্জ, জেলা-রংপুর‘কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও এ ধরনের প্রতিটি সহিংস ঘটনার প্রতিরোধে র্যাবের প্রতিটি সদস্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধভাবে কাজ করছে এবং চলমান এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।