মাটির নাম বাংলাদেশ, ৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধার রক্ত মিশে আছে'- বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান
আপডেট সময় :
২০২৬-০১-২৩ ১৬:৪১:৫৯
মাটির নাম বাংলাদেশ, ৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধার রক্ত মিশে আছে'- বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান
মৌলভীবাজার প্রতিনিধিঃ
গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও মানুষের অধিকার অভিযাত্রার যাত্রা শুরু। ২০২৪ সাল ৫' আগষ্ট ছিল স্বাধীনতা রক্ষা আন্দোলন। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অধিকার, কথা বলার অধিকার,মন খুলে সরকারের সমালোচনা করার অধিকার দিতে হবে। ক্ষমতার মালিক জনগণ প্রসঙ্গে " Take Back Bangladesh" বিএনপি থেকে ৩গুণ প্রোটোকল বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকার ও ইউনূস সরকারের কাছে অনুরোধ করেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল( বিএনপি) চেয়ারপার্সন তারেক রহমান নির্বাচনী প্রচারণায় একথা বলেন।
২২'শে জানুয়ারী মৌলভীবাজার শেরপুরের আইনপুর মাঠে মনোনিত সংসদ সদস্য একগুচ্ছ "ধান প্রতিক" তুলে দেওয়ার পরিচয়ে ১ম দিনের মত নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা কার্যক্রম বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু করেন বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল ( বিএনপি) চেয়ারপার্সন প্রধান অতিথি তারেক রহমান। তিনি বলেন সিলেট হইতে এই রাস্তা দিয়ে এসেছি রাস্তার জায়গায় জায়গায় গর্ত, ভাঙ্গা, খানা-খন্দ আছে। অবস্থার পরিবর্তন করতে হলে ধানের শীষে ভোট দিয়ে সরকার গঠণ করতে হবে। মৌলভীবাজার জেলা এলাকা উন্নয়নের দূত ধানের শীষের চারজন মনোনিত এমপি রয়েছেন। উনাদের মাধ্যমে এলাকার সামগ্রীক উন্নয়ন হবে। বিগত ১৭বছর ধরে তথাকথিত নির্বাচন, নিশিরাত নির্বাচন, ভোটচুর নির্বাচনে সাধারণ জনগণের কথা বলার ও ভোটের অধিকার নাই। ২০২৪ সালের ৫' আগষ্ট পূর্বে অর্থ সম্পদ, টাকা- পয়সা, লুটপাত করে বিদেশে পাঠিয়েছে বিগত স্বৈরাচারী সরকার। ২০০১ সালে যখন আমরা ( বিএনপি) ক্ষমতায় ছিলাম তখন উন্নয়নের পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু ২০০৮ সালের পর স্বৈরাচারী সরকার ক্ষমতায় আসার ফলে সব উন্নয়ন বন্ধ হয়ে গেছে। নারী শিক্ষা সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি, কৃষক ঋণ মওকুফের ব্যবস্থা করেছিলাম। ২০২৪ সাল ৫' আগষ্ট স্বাধীনতা রক্ষা আন্দোলন। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অধিকার, কথা বলার অধিকার, মন খুলে সরকারের সমালোচনা করার অধিকার দিতে হবে। ক্ষমতার মালিক জনগণ বলে" Take Back Bangladesh" প্রবাদবচন বলেন।
I have a plan "করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ" লক্ষ্যে অর্থনৈতিক সমস্যা দূরীকরণ, বেকার যুবক কর্মসংস্থানে প্রবাস গমনে অর্থনৈতিক স্বচ্ছল গড়ে তুলতে ভাষা, শিক্ষা ও ট্রেনিং ব্যবস্থা করবেন। নারী ও শিশু,চা শ্রমিক,বিধবা, কৃষক, অসহায় ও হতদরিদ্র দিনমজুরীদের জন্য "Family Card" খাদ্য সহায়তা ও নগদ সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন। বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। কৃষকের অর্থনৈতিক মেরুদন্ড শক্ত করার লক্ষ্যে কৃষক ভাইদের পাশে "কৃষক কার্ড" এর মাধ্যমে ঋণ, সার- বীজ, বীমা সহায়তা পাবে। খাল খননে কৃষক লাভবান হবে। এছাড়াও তিনি ঈমাম, খতিব, মুয়াজ্জিন সাহেবদের সম্মানি প্রদান করবেন।
"দিল্লি নয় ঢাকা, নয় অন্য কোন দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ" একদল রাজনৈতিক দল চুপিসারে গোপনে সাধারণ জনগনের NID Card,মোবাইল নাম্বার নিয়ে বিভ্রান্তি করছে বলে মন্তব্য করেন। ক্ষমতাই যাওয়ার পূর্বে তারা নাম বিভ্রান্তি করছে, ক্ষমতায় গেলে আপনাদের কি অবস্থা করবে, এখন বুঝেন। আপনারা সবাই সজাগ থাকবেন। তিনি আরও উল্লেখ করে বলেন "এই মাটিতে দাঁড়িয়ে আছি, মাটির নাম কি, বাংলাদেশ" ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধার রক্ত মিশে আছে। ৭১' সালে একদলের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন তাদের ভূমিকা কি ছিল আমরা সবাই জানি? আর এখন দেশপ্রেম দেখাচ্ছে। ১৯৭১ সালে যদি তাদের ভূমিকা থাকত তাহলে এতো শহীদ হতো না, লক্ষ লক্ষ মানুষের মান- প্রাণ সম্ভ্রম হরণ ও শহীদ হয়েছে।
বিএনপি থেকে ৩গুণ প্রোটোকল বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকার ও ইউনূস সরকারের কাছে অনুরোধ করেন। পরবর্তীতে তারেক রহমান বিশাল জনসভায় বিএনপি সমর্থিত হজ্ব ও ওমরাহ করা বিশিষ্ট মুরুব্বি শফিকুর রহমান কে হজ্ব ও ওমরাহ কথা জিজ্ঞাসা করিলে বলেন মক্কা, মদিনা জিয়ারত ও কাবাঘর হজ্ব ওমরাহ। তিনি বলেন দূনিয়ার ঘর, কাবার ঘর, চন্দ্র, সূর্য, সকল পৃথিবীর মালিক আল্লাহ। বেহেস্ত ও দোযকের মালিক আল্লাহ। আর একদল রাজনৈতিক ব্যাক্তি ধর্মীয় অনুভূতির আঘাতে কথায় কথায় বেহেস্ত ও দোযকের কথা বলে কত বড় মুনাফেক?
মৌলভীবাজার -৩ সাবেক সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান শুভেচ্ছা বক্তব্য, পরিচয় পর্বে ৪ প্রার্থী প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন জেলা হেডকোয়ার্টার হইতে ২৪ কিমি দূরে আইনপুর, শেরপুরে অবস্থিত।
মৌলভীবাজার জেলা বিএনপি আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ত্যাগ, তিতিক্ষা ও মানসিক নির্যাতন ভোগ করেছেন। বক্তব্যে বাইপাস সড়ক, মেডিকেল কলেজ, রাস্তাঘাট উন্নয়নে দেশ ও জাতি আপনার ( তারেক রহমান) দিকে তাকিয়ে রয়েছে। সদস্য সচিব রিপন মিয়া বলেন গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও মানুষের অধিকার অভিযাত্রার যাত্রা শুরু। সঞ্চলনায় ছিলেন সাবেক ভিপি মিজানুর রহমান মিজান।
২১'শে জানুয়ারী রাতে সিলেট শহরে পৌছে মাজার জিয়ারত ও ২২'শে জানুয়ারী সকালে সিলেট জনসভা শেষে দুপুর ২ ঘটিকার সময় আইনপুর মাঠ বিশাল জনসভা শেরপুরে উপস্থিত হয়েছেন। বিশাল জনসভায় মৌলভীবাজার জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে নেতা কর্মী ও সাধারণ জনগণ প্রায় ৫০ হাজার জনসমাগম হয়।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Banglar Alo News Admin
কমেন্ট বক্স