গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ
পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গালচিপা) আসনে জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) দশমিনা-গলাচিপা উপজেলা ও পৌর শাখা কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে কমিটি বিলুপ্তির চিঠি এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন সমঝোতার প্রার্থী গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের পক্ষে নির্বাচনী মাঠে কাজ করতে অনীহা প্রকাশ করায় দলীয় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশ সরকার কুট্টি ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটনের কাছে এ বিষয়ক চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান টোটন সংবাদকর্মীদের বলেন, বিএনপির দশমিনা-গলাচিপা উপজেলা ও পৌর শাখা কমিটির বিলুপ্তির কাগজ পেয়েছি। আপাতত এটুকুই বলতে পারি।
দলীয় সূত্রে জানাযায়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি নিজস্ব কোনো প্রার্থী না দিয়ে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী নুরুল হক নুরকে সমর্থন দেয়। গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির একটি অংশ দলীয় এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অনীহা প্রকাশ করে এবং মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখেনি। বরং তারা বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য (সদ্য বহিষ্কৃত) স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দেয়। এতে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ও দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় বিএনপি গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। একই সঙ্গে দল সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে।
গত ১১ জানুয়ারি বিএনপির বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলার বিএনপি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করে নুরুল হক নুরের পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে বিএনপির একজন দায়িত্বশীল নেতা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বলেন, ‘দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ যদি ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ও নির্বাচনি কৌশলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় তাহলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প থাকে না। স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের বিরুদ্ধেও একই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
অন্যদিকে গলাচিপা উপজেলা বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘যে ব্যক্তি দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন, সেখানে কর্মীদেরও বহিষ্কৃত হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয়েছে। আমাদের অন্য কোনো প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার সুযোগ নেই, আমরা হাসান মামুনের সাথেই আছি।