ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬ , ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে সংযোগ সড়কের কাজ বন্ধ করলেন বিএনপি নেতা


আপডেট সময় : ২০২৬-০১-০৯ ১৬:০১:৪৩
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে সংযোগ সড়কের কাজ বন্ধ করলেন বিএনপি নেতা কুড়িগ্রামের রৌমারীতে সংযোগ সড়কের কাজ বন্ধ করলেন বিএনপি নেতা
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ ইং ০২:০১ পিএম.
 
কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার বাওয়াইরগ্রাম এলাকায় প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়ক নিয়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক জটিলতা। স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বাধার মুখে কাজ বন্ধ থাকায় কয়েক গ্রামের মানুষ ও শিক্ষার্থীরা সেতুটি ব্যবহার করতে পারছেন না।
 
রৌমারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাওয়াইরগ্রাম এলাকায় নির্মিত এই সেতুর কাজ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের জুন মাসে। কিন্তু যাদুরচর ইউনিয়নের গোলাবাড়ি এলাকার বিএনপি নেতা শাহাজাহান মণ্ডল ও তাঁর সহযোগীরা সড়কের মাটি ফেলতে বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
 
তাদের দাবি, সংযোগ সড়কের জায়গায় তাদের ব্যক্তিগত জমি রয়েছে। এর ফলে সেতুর কাজ শেষ হওয়ার ৫ মাস পার হলেও সংযোগ সড়ক হয়নি। ঠিকাদারের বসানো গাইডওয়ালের খুঁটি জোর করে তুলে ফেলা হয়েছে। অটোচালক, কৃষক ও শিক্ষার্থীরা সেতুটি ব্যবহার করতে পারছেন না।
 
ঠিকাদার মোঃ সামসুদ্দিন হায়দার জানিয়েছেন, এই সেতুটি নির্মাণ করতে গিয়ে তাঁকে দফায় দফায় বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। বিএনপি নেতা শাহাজাহান মণ্ডলকে ৪ লাখ টাকা এবং অন্য এক ব্যক্তিকে ৩ লাখ টাকা দিতে হয়েছে। স্থানীয় এক সাবেক ইউপি সদস্যকে ঘর তুলে দিতে হয়েছে। মালপত্র চুরি হয়েছে ১০-১৫ লাখ টাকার। এখন সংযোগ সড়কের মাটি কাটতে গেলেই বাধা দেওয়া হচ্ছে।
 
টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে যাদুরচর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মোঃ শাহাজাহান মণ্ডল বলেন, ‘সেতুর জায়গায় আমাদের রেকর্ড করা প্রায় এক বিঘা জমি চলে গেছে। জমির দাম না দিলে মাটি ফেলতে দেব না।’ ঠিকাদারের থেকে টাকা নেওয়ার ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি ৩০ লাখ টাকা নিয়েছি, তাতে কার কী?’
 
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বলেন, স্কুলের ছেলেমেয়েরা মই বা সিঁড়ি বেয়ে ঝুঁকি নিয়ে সেতু পার হচ্ছে। এতে যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
 
অটোভ্যান চালক মোঃ নুরুজ্জামান ও মোঃ বাদশা মিয়া জানিয়েছেন, সড়ক না থাকায় তারা যাত্রী নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না। ফলে তাদের আয় কমে গেছে। কৃষিপণ্য পরিবহনে কোনো সুবিধা পাচ্ছেন না এলাকাবাসী।
 
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে উপজেলার কর্তিমারী জিসি ভায়া বড়াইবাড়ি বিওপি ক্যাম্প সড়কে ৬০.০৬ মিটার আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হয়। কাজটি পান জামালপুরের মেলানহদ এমসিই এমবিই জেভী নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী সামসুদ্দিন হায়দার। ওই বছরই প্রায় ৫ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ব্যয়ে এই গার্ডার সেতুর কাজ শুরু হয়। কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৩ সালে। কিন্তু নানা জটিলতায় তা ২০২৫ সালের জুন মাসে শেষ হয়। 
 
সেতু নির্মাণ কাজের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ জাহাঙ্গীর বলেন, সেতুর পাশে দুই মিটার পুরাতন সড়কের পাশ দিয়ে শাহাজাহান মণ্ডলের খাল রয়েছে। কাজের শুরুতে শাহাজাহান খালটি ভরাট করে দিতে বললে ঠিকাদার রাজি হন। এর পরও কাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে, যা অনভিপ্রেত। 
 
রৌমারী উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ মুনছুরুল হক জানিয়েছেন, জনস্বার্থে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ