ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬ , ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পটুয়াখালীতে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় যুবক নিহত, চারজন আটক


আপডেট সময় : ২০২৬-০১-০৩ ১৫:০০:৪২
পটুয়াখালীতে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় যুবক নিহত, চারজন আটক পটুয়াখালীতে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় যুবক নিহত, চারজন আটক
পটুয়াখালী প্রতিনিধি :
 
ছোট ভাইয়ের বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত বিরোধ মেটাতে গিয়ে পটুয়াখালীতে কিশোর গ্যাংয়ের বর্বর হামলায় খন্দকার নাহিদ (২৪) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। নিহত নাহিদ পটুয়াখালী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং খন্দকার নিজামের ছেলে।
 
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছোট ভাইয়ের সঙ্গে অন্যদের একটি বিরোধকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে নাহিদের ওপর পরপর দুই দিন হামলা চালানো হয়। প্রথম দফায় গত ৩০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় কলাতলা বাজার এলাকায় নাহিদের ওপর হামলা করা হয়। স্থানীয়দের দ্রুত হস্তক্ষেপে সেদিন বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এর পরদিন ৩১ ডিসেম্বর বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সামনে নির্মাণাধীন একটি ভবনের নিচতলায় মাহিনের নেতৃত্বে ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল পুনরায় নাহিদের ওপর হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হামলাকারীরা প্রথমে নাহিদকে হুমকি দেয় এবং পরে ক্রিকেট খেলার ব্যাট দিয়ে তার মাথায় একাধিকবার আঘাত করে।
 
গুরুতর আহত হয়ে নাহিদ অচেতন হয়ে পড়লে হামলাকারীরা তাকে ঘটনাস্থল থেকে তুলে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় কর ভবন এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে তিনি মারা যান।
 
এ ঘটনায় মাহিনকে প্রধান আসামি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া হিরা, স্বাধীন, নাহিদ, এম আই নাহিদ, অমি, নাজমু, দিগন্ত, ছোটন ওরফে তুসার, শাওন, ইমনসহ আরও কয়েকজন হামলায় জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
 
নিহতের ছোট ভাই ফাহিম খন্দকার বলেন, আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের যে ঝামেলা হয়েছিল, তাতে আমার ভাই কোনোভাবেই জড়িত ছিল না। তাকে মাথায় আঘাত করে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই।
 
পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সিদ্দিকুর রহমান জানান,
“ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে মাহিন, নাহিদ, ছোটন ও হিরাসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
 
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বন্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ