নিজস্ব প্রতিবেদক
'বাংলাদেশ আমার অহংকার'- এই মূলমন্ত্রকে বুকে ধারন করে এলিট ফোর্স র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন চাঞ্চল্যকর হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, রাহাজানিসহ মারাত্মক সব সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। হত্যার মতো মারাত্মক সামাজিক অপরাধের ক্ষেত্রে র্যাব অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে থাকে।
বাদীর দায়েরকৃত এজাহার সূত্রে জানা যায় যে, গ্রেফতারকৃত আসামি এবং তার সহযোগী আসামিগণ ভিকটিমের প্রতিবেশী। তাদের সাথে ভিকটিমের দীর্ঘদিন যাবত জায়গা জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ইং ০৫/১২/২০২৫ তারিখ সকাল অনুমান ১০.০০ ঘটিকায় রংপুর জেলার কাউনিয়া থানাধীন খোপাতী এলাকায় বাদীর আবাদী জমিতে গ্রেফতারকৃত আসামি এবং তার সহযোগীরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে দলবদ্ধ হয়ে অনধিকার প্রবেশ করে মাটি কাটতে থাকে। পরবর্তীতে বাদী এবং ভিকটিম আসামিদের বাধা দিতে গেলে গ্রেফতারকৃত আসামি এবং তার সহযোগীরা মিলে ভিকটিম খোকা মিয়া (৭০)কে লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করলে ভিকটিম মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় ভিকটিমকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হলে ইং ১০/১২/২০২৫ তারিখ সকাল ১১.০০ ঘটিকায় ভিকটিম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের ছেলে মোঃ জাকির হোসেন (৪০) বাদী হয়ে রংপুর জেলা কাউনিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-০৩ তারিখ-১০/১২/২০২৫ ইং ধারা ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩২৫/৩০৭/৩০২/৫০৬(২)/১১৪/২৩ পেনাল কোড।
ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক হত্যা হওয়ায় এলাকায় ব্যাপকভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে গ্রেফতার এড়াতে আসামিগণ চতুরতার সাথে আত্মগোপনে ছিলো। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে এবং আসামি গ্রেফতারে সচেষ্ট হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-১৩, সদর কোম্পানী, রংপুরের একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অদ্য ২৭/১২/২০২৫ তারিখ রাত ১২.১৫ ঘটিকার সময় কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট থানার কালীরপাট গ্রামের (৩নং ওয়ার্ড) এর ৪ নং চাকিরপশা ইউনিয়নের জনৈক পাইলট সরকার এর বসতবাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামী মোঃ তোফাজ্জল হোসেন (৪২), পিতা-মৃত জবেদ আলী, সাং-খোপাতী, থানা-কাউনিয়া, জেলা-রংপুর'কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও এ ধরনের প্রতিটি সহিংস ঘটনার প্রতিরোধে র্যাবের প্রতিটি সদস্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ভাবে কাজ করছে এবং চলমান এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।