বদরগঞ্জে ধানের জমি কেটে ইট ভাটায় বিক্রি করছেন এক ইউপি সদস্য, প্রশাসন তৎপর নেই।
আপডেট সময় :
২০২৫-১২-২০ ১৪:২৯:৩১
বদরগঞ্জে ধানের জমি কেটে ইট ভাটায় বিক্রি করছেন এক ইউপি সদস্য,প্রশাসন তৎপর নেই।
বদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি:
সুজলা সুফলা দেশ আমাদের এই বাংলাদেশ। বাংলাদেশ আয়ের একভাগ আসে কৃষি থেকে।এতে বাংলাদেশ উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় সহায়তা ভূমিকা পালন করে।কিন্তু রংপুরে বদরগঞ্জ উপজেলা চোখ জুড়ানো ধানের জমি মাটি কেটে কেটে ইট ভাটা বিক্রি করছেন এক একশ্রেণী মানুষ।এতে দেশের খাদ্য ঘাটতি সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে বিশেষজ্ঞদের মত। উপজেলা কালুপাড়ার ইউনিয়ন উন্তাপাড়া গ্রামে আন্ধার বাঁশ থোপ এলাকার পাকা রাস্তা ডানপাশে প্রায় ৫ বিঘা ধানের জমি গভীর ভাবে কেটে স্হানীয় এম বি এল ভাটায় বিক্রি করছেন স্হানীয় ইউপি সদস্য ইসতিয়াক বাবু।তিনি কালুপাড়া ইউনিয়ন ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। গত ১৫ দিন থেকে ৫ বিঘার অধিক জমি থেকে গভীর ভাবে মাটি ভেকু দিয়ে কেটে ভাটায় বিক্রি করছেন। ট্রাক্টরে মাটি নিয়ে গ্রামীণ জনপদ দিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তা ক্ষতি হচ্ছে।এতে পুনরায় রাস্তা মেরামতের জন্য দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়াও উপজেলা বিভিন্ন এলাকায় জমির উপরিভাগের ফসলি জমির মাটি ইটভাটায় বিক্রি হওয়ায় হওয়ার কারণে জমির উর্বরতা শক্তি কমে যাওয়ায় কমছে উৎপাদন। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের তেমন তৎপরতা না থাকায় কৃষিজমির মাটি কাটার প্রতিযোগিতা চলছে। টাকার লোভে পড়ে মাটি বিক্রি করলেও পরবর্তী ক্ষতির বিষয়টি ভাবছেন না কৃষকেরা।
মাটি বহনকারী এক ট্রাকটর চালক বলেন, ‘জমির মালিক মাটি বিক্রি করেছে ইটভাটার মালিকের কাছে।আমরা মাটি ইটভাটায় নিয়ে যাই।এতে আমরা মজুরি পাই।
উন্তাপাড়া গ্রামে কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, মাটির গাড়িগুলো প্রতিদিন যে ভাবে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে তাতে করে রাস্তার বারোটা বেজেছে।প্রশাসন বিষয়গুলো দেখে তো কোন ব্যবস্হা নেয়না। এজন্য এরা এত সাহস পায়।
অভিযোগ বিষয়ে ইউপি সদস্য ইসতিয়াক বাবু বলেন,আমার সকল ধরনের অনুমতি রয়েছে। আমি আমার কৃষি জমিতে লাভজনক আয় না হওয়ায় সেখানে পুকুর করার জন্য মাটি কাটছি।আর এ জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ থেকে অনুমোদন নেওয়া হয়েছে।
মাটি বহনকারী এক ট্রাকটর চালক বলেন, ‘জমির মালিক মাটি বিক্রি করেছে ইটভাটার মালিকের কাছে। আমাদেরকে আদেশ করছে আমরা জমি থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছি। আমাদের কিছু করার নেই।
উপজেলা মৎস্য কর্মকতা উন্মে হানি মুমু বলেন,পুকুর তৈরি করার কোন অনুমোদন আমরা দেইনা।এটা আমাদের কাজ না।আমরা শুধু মৎস্য চাষীদের সহায়তা ও পরমর্শ প্রদান করে থাকি।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেলিনা আফরোজা বলেন,ধানের কৃষি জমির মাটি থেকে পুকুর তৈরি করার কোন অনুমতি দেয়মি।তারপরও বিষয়টি আমি দেখছি। এছাড়াও তিনি জানান, উপরিভাগের মাটি থাকে ৮ থেকে ১০ ইঞ্চি গভীর পর্যন্ত। এই পর্যন্ত মাটি কেটে নেওয়ার কারণে জমির উর্বরতা শক্তি হারিয়ে যায়। এটি ফিরিয়ে আনতে ২০ থেকে ২৫ বছর সময় লাগে। তবু আগের মতো ফসল উৎপাদন হবে না।
উপজেলা সহকারী ভূমি কমিশনার এক্স কিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদত আলী বলেন, ধানের জমি কেটে পুকুর বানানোর অনুমোদন নেই আমাদের কাছে। বিষয়টি আপনার কাছে শুনলাম। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আঞ্জুমান সুলতানা জানান, ধানের জমি শ্রেণী পরিবর্তন করে পুকুর বানানো আবেদন আমি পায়নি বা অনুমোদন দেয়নি।কৃষি জমি মাটি কাটার অভিযোগ পেলে অভিযান চালাচ্ছি। এছাড়াও নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে। থানায় নিয়মিত মামলা হচ্ছে। সম্প্রতি ড্রেজার মেশিন অকেজো ও পাইপ ধ্বংস করা হয়েছে। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৪ জনকে জেলেও দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা কয়েক দফায় ৮ টি মামলা করেছে। তিনি আরো বলেন গত দেড় মাসে ১০ টিরও অধিক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Banglar Alo News Admin
কমেন্ট বক্স