ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬ , ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ওসমানীনগরে সিপন নৃশংস হত্যাকান্ডের গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে দুই দিন থানায় আটকে রাখার অভিযোগ


আপডেট সময় : ২০২৫-১২-২০ ১৩:১২:৫১
ওসমানীনগরে সিপন নৃশংস হত্যাকান্ডের গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে দুই দিন থানায় আটকে রাখার অভিযোগ ওসমানীনগরে সিপন নৃশংস হত্যাকান্ডের গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে দুই দিন থানায় আটকে রাখার অভিযোগ
সাইদুল ইসলাম, বালাগঞ্জ সিলেট ক্রাইম রিপোর্টার প্রতিনিধি ::

সিলেটের ওসমানীনগরে সিএনজি চালক মো. সিপন আহমদ হত্যাকাণ্ডের মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে সোপর্দ না করে টানা দুই দিন থানার হেফাজতে আটক রাখার অভিযোগ উঠেছে ওসমানীনগর থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। এ ঘটনা আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ ডিসেম্বর সিএনজি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে চালক মো. সিপন আহমদকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় পরদিন ১৪ ডিসেম্বর নিহতের স্ত্রী গুলবাহার বেগম বাদী হয়ে ওসমানীনগর থানায় দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৯৪ ধারায় হত্যা ও ডাকাতির অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন।

একই দিন রাতে মামলার মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত কবির আলম টিপুকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে ওসমানীনগর থানা পুলিশের একটি দল নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার শিবপুর গ্রামে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় ছিনতাই হওয়া সিএনজি গাড়িসহ কবির আলম টিপুকে ঘটনাস্থলে পাওয়া গেলেও পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি পালিয়ে যান। পরে ঘটনাস্থল থেকে ছিনতাই হওয়া সিএনজি গাড়িটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়।

১৫ ডিসেম্বর বিকেলে ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের সোয়ারগাঁও গ্রামের মৃত ছিদ্দেক আলীর পুত্র আব্দুস সামাদকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। অপরদিকে, প্রধান অভিযুক্ত কবির আলমকে গ্রেপ্তারে ব্যর্থ হওয়ার পর পুলিশ তার ভগ্নিপতি জিলা মিয়াকে দাসপাড়া গ্রামের একটি ভাড়াটিয়া বাসা থেকে আটক করেছে। পুলিশ জিলা মিয়াকে আটক করার কারণ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

এছাড়া ঘটনার দিন নিহত সিপনের ব্যবহৃত মুঠোফোনে যেসব নম্বর থেকে কল করা হয়েছিল, সেসব নম্বরের ব্যক্তিদের থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়। এখনো পুলিশের হাত থেকে পালিয়ে যাওয়া অভিযুক্ত কবির আলম টিপুকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। 


এদিকে ১৫ ডিসেম্বর বিকেলে গ্রেপ্তার হওয়া আব্দুস সামাদকে ১৭ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ৮টার দিকে আদালতে সোপর্দ করা হলেও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে কোনো রিমান্ড আবেদন করেননি।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আদালতে চালান দেওয়ার সময় প্রকৃত গ্রেপ্তারের সময় উল্লেখ না করে পরবর্তী সময় দেখিয়ে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। অথচ ফৌজদারি কার্যবিধির (CrPC) ৬১ ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পর আদালতের অনুমতি ছাড়া ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় আটক রাখা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।

এ বিষয়ে সিলেট জজ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট হোসেন বলেন, আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিকে আদালতে হাজির করা বাধ্যতামূলক। এর ব্যত্যয় ঘটলে তা বেআইনি আটক হিসেবে বিবেচিত হয় এবং বাদী চাইলে আদালতে প্রতিকার চাইতে পারেন।

মামলার বাদী গুলবাহার বেগম বলেন, আমি বারবার আসামিকে আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড আবেদন করার অনুরোধ করেছি। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা আমাকে জানান, অন্যান্য আসামি গ্রেপ্তারের সুবিধার্থে তাকে থানায় রাখা হয়েছে।

মামলাল তদন্ত কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান রিমান্ডের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। তবে তদন্তের স্বার্থে অনেক বিষয়গুলি প্রকাশ করা যায়না।

আদালতে চালান দিতে বিলম্বের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসমানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুরশেদুল আলম ভূইয়া বলেন, মামলাটি স্পর্শকাতর। তদন্তের স্বার্থে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Banglar Alo News Admin

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ