এস এম মামুন, যশোর
যশোরের মণিরামপুরে চাঁদার টাকা না পেয়ে রুহুল কুদ্দুস (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগে মেহেদী হাসান তপু (৩৫)সহ তিনজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা দায়ের হয়েছে। মামলাটি মণিরামপুর আমলি আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গ্রহণ করে।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শ্যামকুড় ইউনিয়নের কিটনাশক ব্যবসায়ী মাহবুবুর রহমানের ছেলে মেহেদী হাসান তপু দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকার মৃত ইফাজতুল্লাহর ছেলে রুহুল কুদ্দুসের কাছে এক লক্ষ টাকার চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। এ নিয়ে কুদ্দুসের পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই আতঙ্কে ছিলেন বলে জানা গেছে।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ১৭ নভেম্বর ২০২৫, সন্ধ্যা ছয়টার দিকে মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার সময় শ্যামকুড় স্কুল মোড় এলাকায় পূর্ব থেকে ওঁত পেতে থাকা তপু, তার বাবা মাহবুবুর রহমান এবং সহযোগী জাহিদ হাসান কুদ্দুসের গতিরোধ করেন। চাঁদার দাবিকৃত এক লক্ষ টাকা না দেওয়ায় তারা প্রথমে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে তপু ও জাহিদ এলোপাতাড়ি কিল -ঘুষি ও লাথি মারতে থাকলে কুদ্দুস মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর মাহবুবুর রহমান হত্যার উদ্দেশ্যে তার গলায় চাপ প্রয়োগ করে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
হামলায় রুহুল কুদ্দুসের মুখমণ্ডলের বাম পাশের চোয়াল ভেঙে যায় এবং দাঁত উপড়ে পড়ে। প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ শুরু হলে তার গুংড়ানো চিৎকার শুনে মামলার উল্লেখিত সাক্ষীরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসে, আসামিরা তাদেরও ধমকাতে থাকে এবং বলে তাদের (আসামীদের) পরিচয় প্রকাশ করলে অন্যদেরও পরিবার নিরাপদে থাকবে না।
প্রত্যক্ষদসীরা আহত রুহুল কুদ্দুসকে ধরাধরি করে হসপিটালে নেওয়ার জন্য এম্বুলেন্স ডাকলে সেখানেও বাঁধা সৃষ্টি করে। পথিমধ্য এম্বুলেন্স ভেঙে দিবে এমন হুংকার দেওয়ায় ড্রাইভার তাত্ক্ষণিকভাবে আহত রুহুল কুদ্দুস বহন না করে ফিরতে বাধ্য হন। এখানেও থেকে থাকেনি বলতে থাকেন রুহুল কুদ্দুসের ছেলে (মেহেদি-২৫) চাঁদাবাজ তপু ও তার সঙ্গপাঙ্গরা, আমার বাবাকে যেন নিজ ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মণিরামপুর' ভর্তি হতে না পারেন তার সকল পন্থা অবলম্বন করে। পরে আমরা গোপনীয় ভাবে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে সেখানকার চিকিৎসকরা চিকিৎসা দেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর ২৫০ বেড সদর হসপিটালে রেফার করেন।
ভুক্তভোগী পরিবার পরে আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় গণমাধ্যমকর্মীরা মেহেদী হাসান তপুর বিষয়ে অনুসন্ধানে গেলে স্থানীয় লোকজন বলতে থাকেন, এর আগেও তার নামে হত্যাসহ বহু অভিযোগ উঠলেও অর্থ ও ক্ষমতা বলে প্রশাসনসহ বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে পার পেয়ে যায়, এমনকি স্থানীয়রা তপু ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায় না বলে পরিচয় গোপন স্বার্থে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে কয়েকজন ভুক্তভোগী।