ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ , ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে!


আপডেট সময় : ২০২৫-১১-২২ ১৬:১৬:৪৩
সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে! সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে!


মোঃ ওমর ফারুক 

গত চৌদ্দ পনেরো মাসে সব সেক্টর আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের কাছ থেকে তাদের দাবিদাওয়া আদায় করে নিয়েছে; ব্যতিক্রম কেবল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সমূহে কর্মরত শিক্ষক কর্মকর্তাগণ! 



যদিও এই সেক্টরে কর্মরত শিক্ষকগণের সাথে সবচেয়ে বেশি বৈষম্য করা হয়েছে!১৯৭৩ সালের পে স্কেলে ৬ষ্ঠ গ্ৰেডভুক্ত (তখন ১০ টি ধাপ ছিল) সব গুলো পদে কর্মরতদের পর্যায় ক্রমে গ্ৰেড উন্নয়ন করে ৯ম গ্ৰেডভুক্ত (বর্তমান ২০ টি ধাপ অনুসারে) করা হলেও শুধুমাত্র সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের গ্ৰেডের কোনো উন্নয়ন হয়নি! দীর্ঘদিন ধরে ১০ম গ্ৰেডেই ফেলে রেখে চরম অবহেলা ও বৈষম্য করা হয়েছে! 



এখানে 'ন্যায্য অধিকার' খর্ব করা হয়েছে! তাছাড়া দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া টাইম স্কেল/ সিলেকশন গ্রেড প্রদান করা হচ্ছে না, শিক্ষকগণ প্রতি মাসে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা ব্যসিক বেতন কম পাচ্ছেন; জেলা সদর ও মহানগরে সন্তানদের নিয়ে কোনো রকমে জীবন যাপন করতে তাঁরা হিমসিম খাচ্ছেন! 


এছাড়াও ২০১০ ও ২০১১ ব্যাচে কর্মরত শিক্ষকদের দীর্ঘ দিন (১৪ থেকে ১৬ বছর) ধরে পদোন্নতি দেয়া হচ্ছে না! 



আবার এডভান্স ইনক্রিমেন্ট সমস্যার কারণে ১৫ সালের পে স্কেলের পর থেকে শিক্ষকদের অগ্ৰিম বর্ধিত বেতনের মঞ্জুরি না দেওয়ার কারণে তরুণ শিক্ষকদের আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে আবার সিনিয়র সহকর্মীগণ অবসরে যাওয়ার সময় তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে অথচ ১৯৭০ সালের এডুকেশন মেমোরেন্ডাম অনুযায়ী শিক্ষা বিভাগের শিক্ষক কর্মকর্তাগণ এই সুবিধা পাওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করেন! 



যদিও দীর্ঘদিন ধরে এই সেক্টরটি অবহেলিত তথাপি চাকরি বিধি ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে অদ্যাবধি কর্মরত শিক্ষকগণ কোনো প্রকার আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা বা পালন করেননি! বরং তারা বরাবরই ইন্টেরিম সরকারকে সহযোগিতা করে আসছেন কিন্তু এখন দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে! 



বিভিন্ন সময়ে অধিদপ্তর, মন্ত্রণালয়ের সচিব মহোদয়কে এমনকি শিক্ষা উপদেষ্টা মহোদয়ের সঙ্গে একাধিকবার সাক্ষাৎ করে লিখিতভাবে তাদের সঙ্গে চলে আসা বৈষম্য তুলে ধরে তা নিরসনের উদ্যোগ নিতে বারবার সাক্ষাৎ করে অনুরোধ করা হয়েছে! দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, এত নিয়ম তান্ত্রিক প্রচেষ্টার পরেও সরকার এই বিভাগে কর্মরত শিক্ষকদের প্রতি একেবারেই উদাসীন থেকেছেন! 


এখন সরকারের শেষ সময়ে এসে কর্মরত শিক্ষকগণ হতাশার অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে কোনো উপায় না পেয়ে আন্দোলনের কর্মসূচি পালনের কথা ভাবতে বাধ্য হচ্ছেন!  


উল্লেখ্য তাঁরা আগামী ২৫ নভেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে আবারো সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মহোদয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে সময় নিয়েছেন। এদিন আলোচনা ফলপ্রসূ হবে বলে শিক্ষক নেতৃবৃন্দ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তবে যদি আলোচনা সফল না হয় তবে ঐদিনই সমিতির নেতারা সকল অংশীজনের উপস্থিতি ও মতামতের ভিত্তিতে চলমান বার্ষিক ও নির্বাচনী পরীক্ষা বর্জন সহ কর্মবিরতির ডাক দিতে পারেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।


সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের প্রাণের দাবি সমুহ: 


১। এন্ট্রিপদ নবম গ্রেড ধরে চার স্তরীয় একটি একাডেমিক পদসোপান ও দ্রুত "মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর" আলাদা করণের গেজেট প্রকাশ।


বকেয়া টাইম স্কেল /সিলেকশন গ্রেডের মঞ্জুরী আদেশ প্রদান এবং অ্যাডভান্স ইনক্রিমেন্ট সমস্যার দ্রুত সমাধান প্রদান।


বিধি মোতাবেক সকল শূন্য পদে পদোন্নতি প্রদান। 


উপরের দাবিগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শিক্ষক সমিতির ব্যানারে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশের মাধ্যমে মাউশি ঘেরাও এবং চলমান বার্ষিক ও নির্বাচনী পরীক্ষা বর্জনের মতো কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ