ফাজিল পরীক্ষায় খাতা হারানো নকল অব্যবস্থাপনা-------চাউলাকাঠী কেন্দ্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
আপডেট সময় :
২০২৫-১১-২২ ১০:৪৪:০৭
ফাজিল পরীক্ষায় খাতা হারানো নকল অব্যবস্থাপনা-------চাউলাকাঠী কেন্দ্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
বরিশাল জেলার বানারীপাড়া উপজেলার চাউলাকাঠী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা পরীক্ষা কেন্দ্র (কেন্দ্র কোড–৫৫২)-এ ১৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত ফাজিল প্রথম বর্ষের আদ-দিরাসাতুল হাদিস তৃতীয় পত্র (বিষয় কোড ১১১০১৩) পরীক্ষায় গুরুতর অনিয়ম ও উত্তরপত্র হারানোর ঘটনা ঘটেছে। দুপুর ১:৩০ মিনিটে শুরু হয়ে ৪:৩০ মিনিটে শেষ হওয়া পরীক্ষার পর খাতা গণনার সময় ৩ নম্বর হলের মোট ২৭টি ওএমআর এর মধ্যে একটি খাতা অনুপস্থিত পাওয়া যায়।
ঘটনার পর কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিষয়টি বানারীপাড়া থানায় সাধারণ ডায়েরির মাধ্যমে জানালেও কেন্দ্রের প্রশাসনিক প্রধান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করেননি। পরদিন ১৮ নভেম্বর মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ ইয়াসিন মৌখিকভাবে ইউএনও-কে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি ৮১৪ নং স্মারকে জেলা প্রশাসক, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে জানান। পাশাপাশি কেন্দ্রের ট্যাগ অফিসার উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা সদর থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরত্বে দুর্গম এলাকায় অবস্থিত এ কেন্দ্রটিতে দীর্ঘদিন ধরে অর্থের বিনিময়ে নকলের সুযোগ সৃষ্টি করে পরীক্ষার পরিবেশ নষ্ট করার অভিযোগ রয়েছে। কেন্দ্রটি উপজেলা সদরে স্থানান্তরের জন্য গত ১৯ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে ৭৫৮ নং স্মারকে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়কে অবহিত করা হলেও এখনও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
অভিযোগ উঠেছে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইয়াসিন দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও অযোগ্যতার পরিচয় দিয়ে পরীক্ষা পরিচালনা নীতিমালা অনুসরণে ব্যর্থ হওয়ায় এ অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ অচলাবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই বিরাজমান। অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের পদ শূন্য, প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি গঠন স্থগিত এবং ছাত্রসংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়া সব মিলিয়ে সংকট আরও গভীর হয়েছে। বিগত আলিম পরীক্ষায় ১১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ৩ জন।
মাদ্রাসাটির পরীক্ষা কেন্দ্রে অতীতেও অর্থের বিনিমিয়ে অনিয়মের নজির রয়েছে। ২০২৩ সালের ফাজিল পরীক্ষায় নকলের দায়ে দুই পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছিল। বর্তমানেও পরীক্ষার কাজে নিয়োজিত বিগত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের সংসদ সদস্য শাহে আলমের দোসর মাওলানা ইয়াসিন, মাওলানা আব্দুর রহিম, মাওলানা ইমরান ও বাবুল আক্তারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
চাউলাকাঠী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ ইয়াসিনের মন্তব্য জানতে তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনাটি সম্পর্কে তার অবস্থান জানা সম্ভব হয়নি।
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স