মানিকগঞ্জ জেলা সাব রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের দুর্নীতি
আপডেট সময় :
২০২৫-১০-৩০ ১৮:৩৭:০২
মানিকগঞ্জ জেলা সাব রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের দুর্নীতি
মো নাহিদুর রহমান শামীম
ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি:
মানিকগঞ্জ জেলা সাব রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের ভেতর এবং কর্মকর্তা দুর্নীতির সাথে জড়িত।গত ১৩-৫-২৫ সালে আমার বন্ধু রাশেদ, তার বাবা জমির নকল দেখার জন্য যায়। সেখানে থাকা পিয়ন বলে স্যার নাই। ভেতর তাকিয়ে দেখে সত্য স্যার নাই, পিয়ন বলে কি নকল দেখবেন না উঠাবেন। দুটি করবো, নিয়ম অনুযায়ী প্রথম সাল ৩০০ তার পর ১০০ টাকা করে নিবে ঠিক আছে, বন্ধু যে সালে দলিল তার সব বিপণন দিলো, ৫০০ টা দিয়ে বের হলো। পরে পিয়ন তাদের ফোন দিয়ে ১৫ দিন পর দলিল পাওয়া গেছে বলে আসতে বলে, পিয়ন বলে দুটি দলিল এখন নিতে গেলে ১০ হাজার টাকা ফ্রী লাগবে ( পিয়নের নাম দুলাল) বাড়ি চরমত্ত,পরে উপায় না পেয়ে ৭ হাজার টাকা দলিল উঠাতে হলো। শুধু আমার বন্ধু নয়,মানিকগঞ্জ সিংগায়র উপজেলার চান্দু মিয়ার এমন ভুক্তভোগী শিকার হয়। তেমন এক ভুক্তভোগী শিকার হয়ে চিঠি লেখন,
বিষয়: মানিকগঞ্জ সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের লাগামহীন অনিয়ম, দুর্নীতি, প্রকট সিন্ডিকেট এবং সাধারণ জনগণের চরম ভোগান্তি প্রসঙ্গে অভিযোগ।
মহোদয়,সবিনয় নিবেদন এই যে, আমি মানিকগঞ্জ সদর এলাকার একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে বসবাস করছি গত কিছু দিন ধরে জমি সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে মানিকগঞ্জ জেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সেবাপ্রার্থী হিসেবে ঘুরে চরম ভোগান্তির শিকার হই। আপনাদের মাধ্যমে এই অভিযোগটি জনসম্মুখে তুলে ধরতে চাই।
দীর্ঘদিন ধরে মানিকগঞ্জ সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমি রেজিস্ট্রেশন ও সংশ্লিষ্ট সকল প্রকার কাজে একটি শক্তিশালী ও সুসংগঠিত সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। এই সিন্ডিকেট সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের কর্মচারী, কিছু দলিল লেখক এবং কতিপয় বহিরাগত দালাল চক্রের সমন্বয়ে গঠিত। এদের দৌরাত্ম্যে সাধারণ জনগণ প্রতিদিন চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
বিশেষভাবে যেসকল অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতীয়মান:
১. ঘুষ ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়: নিয়ম অনুযায়ী ফি প্রদান করার পরেও প্রতিটি ধাপে, বিশেষত দলিল পরীক্ষণ, নকল উত্তোলন, তল্লাশি এবং রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করার জন্য নির্ধারিত সরকারি ফি’র বাইরে প্রকাশ্যে ও গোপনে অতিরিক্ত অর্থ বা ঘুষ দাবি করা হয়। এই 'অতিরিক্ত ফি' না দিলে ফাইল আটকে রাখা হয় বা অপ্রয়োজনীয় ত্রুটি দেখিয়ে ফেরত দেওয়া হয়।
২. সিন্ডিকেটের প্রাধান্য: সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ভিতরে ও বাইরে একটি প্রকট দালাল ও সিন্ডিকেট সক্রিয়। সাধারণ মানুষ সরাসরি নিয়ম মেনে কাজ করতে চাইলে তাদের নানাভাবে নিরুৎসাহিত করা হয় বা কাজ অসম্ভব করে তোলা হয়। অন্যদিকে, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গেলে সব কাজ দ্রুত হলেও অতিরিক্ত টাকা গুনতে হয়। সিন্ডিকেটের বাইরে কোনো কাজ প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
৩. সেবাপ্রার্থীদের প্রতি বৈষম্য: যারা ঘুষ দিতে বা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কাজ করাতে রাজি হন না, তাদের সাথে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করা হয় এবং তাদের কাজগুলো মাসের পর মাস ফেলে রাখা হয়। এতে সাধারণ মানুষ চরম আর্থিক ক্ষতি এবং মানসিক কষ্টের সম্মুখীন হচ্ছেন।
৪. সময়ক্ষেপণ ও হয়রানি: সামান্য একটি কাজের জন্যও মাসের পর মাস ঘোরানো হয় এবং নানা অজুহাতে দিনের পর দিন সময়ক্ষেপণ করা হয়। এতে ভূমি সংক্রান্ত জরুরি কাজগুলোও সঠিক সময়ে সম্পন্ন করা যাচ্ছে না।
এমতাবস্থায়, দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ও নিরপেক্ষ সংবাদমাধ্যম হিসেবে ইনডিপেনডেন্ট টিভির অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার উপর আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আমি বিনীত অনুরোধ করছি, আপনি সরেজমিনে তদন্তপূর্বক এই অফিসের অনিয়ম, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে একটি বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করুন। আপনার মাধ্যমে সংবাদটি প্রচারিত হলে সাধারণ জনগণ এই হয়রানি থেকে মুক্তি পাবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Banglar Alo News Admin
কমেন্ট বক্স