ঢাকা , শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬ , ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘুষ গ্রহণের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরও বহাল তবিয়তে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মেহেদী হাসান

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৫-১০-০১ ১৫:০১:৪০
ঘুষ গ্রহণের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরও বহাল তবিয়তে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ঘুষ গ্রহণের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরও বহাল তবিয়তে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মেহেদী হাসান


নিজস্ব প্রতিবেদক 
ঘুষ দুর্নীতি ও সরকারি রাজস্ব ফাঁকি অধিকাংশ কাস্টমস হাউজের ঝাড়ুদার পিয়ন অফিস সহকারি সিপাহী কর্মকর্তারা বনে গেছেন শূন্য থেকে শত শত কোটি টাকার মালিক, কিছু অবৈধ কর্মকর্তা কর্মচারীরা দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে চাঙ্গা করছেন নিজের পকেটের অর্থনীতি। এইসব দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই কিন্তু অবৈধ অর্থের গরমে অধিকাংশ অপরাধীরাই থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাহিরে। সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে একের পর এক অনিয়ম ঘুষ দুর্নীতি করে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে হয়ে গেছেন বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থের মালিক কিন্তু অধিকাংশ অভিযোগ অর্থের বিনিময় ধামাচাপা দিয়ে দিচ্ছেন। 


কিছুদিন আগে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) মেহেদী হাসানের ঘুস গ্রহনের একটি ভিডিও ”এনবিআর নিউজ এন্ড ভিউজ” নামে একটি ফেসবুক গ্রুপে আপলোড হয় এবং নেটিজেনরা তা ভাইরাল করে। যদিও কয়েক দিনের মধ্যেই ফেসবুক গ্রুপে আপলোডকৃত ভিডিওটি ডিলিট করে দেয় অভিযোগ আছে এই ভিডিও ডিলিট করার জন্য তিনি প্রচুর অর্থ ব্যয় করেছেন।


সম্প্রতি মোংলা কাস্টমস হাউস থেকে  কমলাপুর কাস্টমসে (আইসিডি) বদলি আদেশ প্রাপ্ত সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) মেহেদী হাসান ঘুস বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে দুর্নীতি দমন কমিশনে(দুদক) দায়েরকৃত এক অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে।


১০/৯/২০২৫ তারিখে দুদকে দায়েরকৃত অভিযোগে বলা হয়েছে, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা(এআরও) মেহেদী হাসান বর্তমানে মোংলা কাস্টমস হাউসে কর্মরত আছেন। এর পূর্বে চট্টগ্রাম কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটে কর্মরত ছিলেন। তার পূর্বে গাজীপুর ভ্যাট ডিভিশন ও গুলশান ভ্যাট ডিভিশনে কর্মরত ছিলেন। তিনি যখন যেখানে কর্মরত ছিলেন সেখানেই ভ্যাট দাতা ও শুল্ককরদাতাদের সাথে পারস্পরিক যোগসাজসে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। বর্তমানেও একই ধরনের অপকর্মে সম্পৃক্ত রয়েছেন।



অভিযোগে বলা হয়েছে,মেহেদী হাসানের ঘুস গ্রহনের ভিডিওটি তার ঘুস বাণিজ্যের একটি নমুনা মাত্র। তিনি যখনগাজীপুর ভ্যাট ডিভিশন ও গুলশান ভ্যাট ডিভিশনে কর্মরত ছিলেন;তখন তার রেঞ্জে সবচেয়ে কম ভ্যাট আদায় হতো। কারন ভ্যাটদাতা প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগসাজস করে কম ভ্যাট ধার্য করে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে নিজে অর্থ হাতিয়ে নিতেন। একই ঘুস বাণিজ্য করেছেন চট্টগ্রাম কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটে। মোংলা কাস্টমস হাউসেও একই কাজ করছেন।



২০১৮ সালে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) পদে যোগদানের পর মেহেদী হাসানকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। মাত্র সাত বছরের চাকরি জীবনে এখন অন্তত: ১০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক। খুলনা শহরে সম্প্রতি ১ কোটি টাকা দিয়ে জমি কিনেছেন। সাতক্ষীরা গ্রামের বাড়িতে নির্মান করেছেন বাংলো। করেছেন স্থাবর-অস্থাবর অনেক সম্পদ। একটি প্রাইভেট কার ক্রয় করেছেন। রয়েছে ব্যাংকে এফডিআর। যার তার জ্ঞাত আয়ের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। মেহেদী হাসান ও তার পরিবারের সদস্যদের জাতীয় পরিচয় পত্রের বিপরীতে সম্পদের অনুসন্ধান করলে অভিযোগের প্রমান পাওয়া যাবে বলে আবেদনে দাবি করা হয়েছে।



এছাড়া, মেহেদী হাসান ছাত্রজীবনে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন। চাকরিতে যোগদানও করেছেন ”আওয়ামী ম্যান” পরিচয়ে। চাকরিতে কর্মরত থাকা অবস্থায় তিনি আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহন করেছেন। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি নিয়মিত ডোনেশন দিতেন। এমনকি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে তিনি সরাসরি অংশগ্রহন করেছেন এবং অর্থ যোগান দিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।


আবেদনে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মেহেদী হাসানের ঘুস বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার, জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ ও অনিয়ম দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্যে দুর্নীতি দমন কমিশন ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর প্রতি আহবান জানানো হয়েছে ।
 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মেহেদী হাসানের ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
 

সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মেহেদী হাসানের ঘুষ দুর্নীতি অনিয়ম ও অবৈধ অর্থে সম্পদের বিবরণ নিয়ে একটি ভিডিও প্রতিবেদন আসছে দ্বিতীয় পর্বে।

 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Banglar Alo News Admin

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ