ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬ , ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘুষ দুর্নীতি সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে জেলা শিক্ষা অফিসার থেকে হয়েছেন উপ-পরিচালক নাসির উদ্দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৫-০৯-২৮ ২০:৪৮:১৬
ঘুষ দুর্নীতি সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে জেলা শিক্ষা অফিসার থেকে হয়েছেন উপ-পরিচালক নাসির উদ্দিন ঘুষ দুর্নীতি সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে জেলা শিক্ষা অফিসার থেকে হয়েছেন উপ-পরিচালক নাসির উদ্দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক 

শিক্ষা অধিদপ্তর মানুষ তৈরীর কারখানা কিন্তু সেখানেও থেমে নেই ঘুষ দুর্নীতি অনিয়ম, অনেকেই নিজের বিবেককে বিসর্জন দিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে শূন্য থেকে হয়ে গেছেন শত কোটি টাকার মালিক, যেখানে রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা অধিদপ্তর সবার ঊর্ধ্বে কারণ এখান থেকেই প্রতিনিয়ত বের হচ্ছে শিক্ষিত তরুণ-তরুণীরা কিন্তু জীবন শুরু করার আগেই তাদেরকে উপলব্ধি করতে হয় যাদের দ্বারা তারা পরিচালিত হচ্ছে তারাই অনিয়ম দুর্নীতিতে ডুবে আছে, শিক্ষা অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির  অভিযোগের শেষ নেই সুযোগ পেলেই অধিকাংশ কর্মকর্তা কর্মচারী জড়িয়ে পড়ছেন নানা অপকর্ম অনিয়মে।



রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান সচিবসহ একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর নামে ইতিমধ্যে বহুবার অর্থ আত্মসাৎ ও দুর্নীতির দায়ে মামলা হয়েছে কিন্তু অদৃশ্য কারণে তা আবার থেমে গিয়েছে। 



রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের জেলা কর্মকর্তা নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক অভিযোগ, বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন, বিগত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আমলে, আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এমপি মন্ত্রী মেয়রদের সাথে ছিল তার ঘনিষ্ঠ সখ্যতা ৫ই আগস্ট স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার পতনের পর যেখানে ফ্যাসিবাদের বিভিন্ন কর্মকর্তা কর্মচারীরা বদলি বরখাস্ত সহ বিভিন্ন শাস্তির আওতায় এসেছেন কিন্তু নাসির উদ্দিনের ক্ষেত্রে হয়েছে উল্টো তিনি বহাল তবিয়ত থেকেও নিয়েছেন পদোন্নতি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা থেকে হয়েছেন আঞ্চলিক কর্মকর্তা বর্তমানে তিনি কর্মরত আছেন ময়মনসিংহ আঞ্চলিক শিক্ষা অফিসের উপ-পরিচালক।



প্রায় ১৮ লাখ টাকা আত্মসাথের অভিযোগে ২০২৩ সালে রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এতে শিক্ষা বোর্ডের সাবেক সচিব ড. আনারুল হক প্রামাণিকসহ মোট ১৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ঠিকাদারকে আসামি করা হয়েছিল।



অভিযোগ আছে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের প্রতিটি অনিয়ম ও সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এর সঙ্গে রাজশাহী জেলা শিক্ষা অফিসার নাসির উদ্দিন সহ আরো বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন কিন্তু তারা থেকে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাহিরে।



রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করে বলেন, জেলা শিক্ষা অফিসার নাসির উদ্দিন অদৃশ্য প্রভাবে চেয়ারম্যানের অফিস কাম বাসভবনের সংস্কার, মোটরসাইকেল এবং জিপ গাড়ি রাখার গ্যারেজ নির্মাণ, পুরাতন ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলার রং করা, পুরাতন ভবনের তৃতীয় ও চতুর্থ তলার রং করা, পুরাতন ভবনের পূর্ব, দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশে ড্রেন নির্মাণ, উপকরণ শাখা ও কর্মচারী ইউনিয়ন কক্ষের মূল রাস্তা নির্মাণ, গ্যারেজের সামনে রাস্তা উঁচুকরণ, প্রশাসনিক ভবনের সামনের রাস্তা পাথর সিমেন্ট দ্বারা উঁচু করা, পুরাতন ভবনের স্কুল কলেজ নিবন্ধন শাখার পূর্ব প্রাচীর সংলগ্ন পূর্ব ও দক্ষিণ প্রান্ত এবং ভবন সলগ্ন পূর্ব-দক্ষিণ পাশ ভরাটসহ সাপোর্ট ওয়াল দ্বারা সোলিং রাস্তাকরণ সহ আরো বিভিন্ন কাজ থেকে কমিশন খেয়েছেন অনিয়ম ও দুর্নীতি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন কিন্তু তিনি খুব ধুরন্দর ও চালাক সব সময়ই থেকে গেছেন আড়ালে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী ফেঁসে গেলেও তিনি কখনো প্রকাশ্য আসেননি কারণ বিগত সরকারের উচ্চ পর্যায়ের অনেকের সাথে ছিল তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।



নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকলেও তা অদৃশ্য কারণে কখনো কার্যকর হয়নি, এই কারণে তিনি বহাল তবিয়ত থেকে পদোন্নতি নিয়েছেন অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন উনার মত একজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা শাস্তি না পেয়ে কিভাবে পদোন্নতি পেলেন? এদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তি মূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। 



সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের ২০ কোটি টাকা অর্থ আত্মসাৎ এবং ঘুষ দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে নাসির উদ্দিন, শেখ মোঃ সাইমুম হোসেন ও তার স্ত্রী দিলারা জাহান, নিশাত ফাতেমা সহ ১২ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে বিভিন্ন দপ্তরে তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছে।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, রাজশাহী শিক্ষা অধিদপ্তরের বিভিন্ন দুর্নীতি কারি একাধিক কর্মকর্তা কর্মচারীর বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে তদন্তে দোসী প্রমাণিত হলে মামলা সহ বিভিন্ন শাস্তির সুপারিশ করা হবে এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত সকল সংবাদ দুদক গুরুত্ব সহকারে পর্যালোচনা করে। 



এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-পরিচালক নাসির উদ্দিনের ফোনে যোগাযোগ করা হলে দুর্নীতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তালবাহানা করে ফোন কেটে দেন।


 
নাসির উদ্দিনের আরো অনিয়ম দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের বিবরণ নিয়ে দ্বিতীয় পর্বে একটি ভিডিও প্রতিবেদন আসছে।







 


নিউজটি আপডেট করেছেন : Banglar Alo News Admin

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ