স্বৈরাচারের আশীর্বাদ পুষ্ট সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অনুসারী অতিরিক্ত সচিব আখতারুজ্জামান এর বিরুদ্ধে কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ!
স্বৈরাচারের আশীর্বাদ পুষ্ট সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অনুসারী অতিরিক্ত সচিব আখতারুজ্জামান এর বিরুদ্ধে কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ!
স্বৈরাচারের আশীর্বাদ পুষ্ট সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অনুসারী অতিরিক্ত সচিব আখতারুজ্জামান এর বিরুদ্ধে কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ!
নিজস্ব প্রতিবেদক
বিগত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ঘুষ দুর্নীতি অনিয়মের ব্যাপক অভিযোগ ছিল, অনেক কর্মকর্তা কর্মচারী আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাব খাটিয়ে ঘুষ দুর্নীতির টাকায় শূন্য থেকে বনে গেছেন কোটিপতি, কিন্তু স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকার পতনের অধিকাংশ ফ্যাসিস্টের দোসর এখনো রয়েছে বহাল তবিয়তে পূর্বের মত এখনো বিভিন্ন অনিয়ম ঘুষ দুর্নীতিতে জড়িয়ে আছেন। সম্প্রতি অভিযোগ এসেছে শেখ হাসিনার আশীর্বাদ পুষ্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিতর্কিত দুর্নীতিবাজ নিয়ম বহির্ভূতভাবে পদোন্নতি পাওয়া অতিরিক্ত স্বাস্থ্য সচিব (ব্যবস্থাপনা পরিচালক, কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট) মোঃ আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ।
বিগত ফ্যাসিবাদ সরকারের আমলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ডুবে ছিল বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাক্তার জাহিদ মালেকের অনুসারী ছিলেন আখতারুজ্জামান বিভিন্ন প্রকল্প থেকে অনিয়ম দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্য করে কামিয়েছেন বিপুল পরিমাণ অর্থ সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিকের ঘনিষ্ঠ লোক হওয়ায় ২০২৩ সালে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে পদোন্নতি পান ডাক্তার আখতারুজ্জামান, তার বিরুদ্ধে ছিল একাধিক অভিযোগ দুর্নীতি স্বজন প্রীতি সহ বিভিন্ন প্রকল্পের কমিশন বাণিজ্য গ্রহণ কিন্তু ফ্যাসিবাদের প্রভাবে কোন অভিযোগ কখনো কার্যকর হয়নি অদৃশ্য কারণে, তবে এখনো তিনি সেই অনিয়ম দুর্নীতির ধারা অব্যাহত রেখেছেন সম্প্রতি উঠে এসেছে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) প্রকল্পের চাকরি রাজস্ব খাতে স্থায়ী করার প্রলোভন দেখিয়ে হাতিয়ে নেওয়া বিপুল পরিমাণ চাঁদা ঘুষ নিয়েছেন।
সিএইচসিপি সংগঠনের একাধিক কর্মীরা বলেন, কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রভাইডার (সিএইচসিপি) প্রকল্পের চাকরি রাজস্ব খাতে স্থায়ী করার প্রজ্ঞাপন জারির নামে প্রায় তিন কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আখতারুজ্জামান ও বাংলাদেশ সিএইচসিপি অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে তীর ছুড়েছেন।
সংগঠনের একাধিক নেতাকর্মীরা বলেন, ১ আগস্ট রাজধানীর মহাখালীর বিএমআরসি ভবনে আয়োজিত এক সভায় অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. জাহিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মো. নঈম উদ্দিন প্রতিটি সিএইচসিপি কর্মীর কাছ থেকে দুই হাজার ১০০ টাকা করে চাঁদা তোলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সভায় দেশের সব জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৪ হাজার কর্মীর কাছ থেকে মোট ২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা উত্তোলনের পরিকল্পনা করা হয়।
একাধিক অভিযোগ রয়েছে, এর আগেও জাহিদুল ইসলাম বিভিন্ন সময়ে চাকরি রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তি, ইএফটি অনলাইনে বেতন-ভাতা বাস্তবায়ন, এমনকি হাইকোর্টে রিট করার নামে সিএইচসিপি কর্মীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আদায় করেছেন। শুধু চলতি বছরের জুন মাসেই অনলাইন বেতন-ভাতার নামে ২ কোটি ১০ লাখ টাকা সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে।
অনেক কর্মী দাবি করে বলেন, কর্মীদের অনেক অর্থ আত্মসাৎ করে জাহিদুল ইসলাম এখন কোটি কোটি টাকার মালিক। তার রয়েছে প্রাইভেট কার, ঢাকায় ফ্ল্যাট এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ বিপুল সম্পদ অথচ তিনি সামান্য বেতনে চাকরি করেন।
এদিকে গত ১২ সেপ্টেম্বর ঝিনাইদহে আয়োজিত খুলনা বিভাগীয় সভায়ও টাকা তোলার সিদ্ধান্ত হয়। এর পর ১৪ সেপ্টেম্বর খুলনা সিএইচসিপি নামে যশোর সোনালী ব্যাংক করপোরেট শাখায় একটি হিসাব খোলা হয়।
বাগেরহাটের একাধিক কর্মী বলেন বলেন, “প্রজ্ঞাপন জারির নামে আমাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায় করা হচ্ছে। আগে রিটের নামে কোটি টাকা খেয়েছে, এখন আবার নতুন করে চাঁদা তোলা হচ্ছে, তারা আরো বলেন অতিরিক্ত স্বাস্থ্য সচিব ডাক্তার আখতারুজ্জামান এর ছত্রছায়া ও প্রভাবে হাতিয়ে নিয়েছে বিপুল পরিমাণ অর্থ।
একাধিক গণমাধ্যম এর কাছে অভিযোগ অস্বীকার করে কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, “চাকরি রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তির নামে টাকা তোলার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। যারা টাকা তুলছে, সেটা কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত নয়।” তবে তার স্বাক্ষরিত প্যাডে বিভাগীয় শাখাগুলোর নামে হিসাব খোলার নির্দেশনা পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আক্তারুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে তার ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Banglar Alo News Admin
কমেন্ট বক্স