ঢাকা , রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬ , ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বদরগঞ্জে শ্যালো মেশিন চুরির অপবাদে চার যুবককে রাতভর নির্যাতন, জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়।


আপডেট সময় : ২০২৫-০৯-২০ ১৫:১৩:৫৩
বদরগঞ্জে শ্যালো মেশিন চুরির অপবাদে চার যুবককে রাতভর নির্যাতন, জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়। বদরগঞ্জে শ্যালো মেশিন চুরির অপবাদে চার যুবককে রাতভর নির্যাতন, জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়।
 
রানা ইসলাম বদরগঞ্জ রংপুর:
 
রংপুরের বদরগঞ্জে শ্যালো মেশিন চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে চার যুবককে রাতভর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
 
ভুক্তভোগীদের পরিবার জানায়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে স্থানীয়ভাবে একটি শ্যালো মেশিন চুরি হওয়ার পরদিন (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কুতুবপুর মোল্লাপাড়ার এনামুল হক (২৬), পিতা- হাজী মোঃ আঃ রউফ এবং তার সহযোগী জিহাদুল হক কৌশলে প্রতিবেশী হাসান (২২), সজীব (২০), ভ্যানচালক ফুল বাবু (২৬) ও মজিবুল (১৩) নামের এক কিশোরকে ডেকে নেয়।
 
পরবর্তীতে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ১২নং কুতুবপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সুমন মিয়াসহ কয়েকজন মিলে চারজনকে একটি ঘরে আটকে রাখে। সেখানে তাদের ওপর রাতভর বেধড়ক লাঠিপেটা করে গুরুতর জখম করা হয়। পরে এক পর্যায়ে তাদেরকে ভয়-ভীতি দেখে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় করে। 
 
অভিযোগে বলা হয়, নির্যাতনকারীরা ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন (মূল্য প্রায় ২০ হাজার টাকা), দুটি বাটন ফোন (মূল্য প্রায় ২,৬০০ টাকা), একটি ভ্যানের চাবি কেড়ে নেয় এবং ভয়-ভীতি দেখিয়ে মোট ২০ হাজার টাকা আদায় করে।

এছাড়া তাদের দিয়ে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়, এবং হুমকি দেওয়া হয়- ঘটনা প্রকাশ করলে ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। বর্তমানে আহত হাসান, সজীব, ফুল বাবু ও কিশোর মজিবুল বদরগঞ্জ উপজেলা  স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
 
ভুক্তভোগীদের পরিবার শুক্রবার সন্ধ্যায় বদরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও ভীতির সঞ্চার হয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সাথে জড়িত ইউপি সদস্য সুমনসহ সংশ্লিষ্ট সকলের বিচার দাবি করেছেন।
 
স্হানীয় মোল্লাপাড়া গ্রামে আব্দুল হান্নান বলেন, বিনা দোষে তাদেরকে বেধড়ক পিটিয়েছে এনামুল, জিহাদুলসহ তিনজন। এদের আইনে বিচার হওয়া দরকার। 
শাহানা বেগম নামে এক নারী বলেন, তাদেরকে মিথ্যা চুরির অপবাদ দিয়ে যেভাবে রাতে এক ঘরে আটকে রেখে মারধর করছে এটা অমানবিক ঘটনা। এদের সবার বিচার হওয়া দরকার। 
 
অভিযুক্ত এনামুল হকের সঙ্গে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে  মুঠোফোন যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আপনি বাড়িতে আসেন কথা বলি।বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায় নি। এনামুলের বাড়ির পাশে দু'জন ব্যাক্তি বলেন,আপনি বাড়িতে আসার ৫ মিনিট আগে এনামুল পালিয়ে যায়। পরে এনামুল মোবাইলে যোগাযোগ করলে বন্ধ পাওয়া যায়। 
 
এবিষয়ে কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নং ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য সুমন মিয়া বলেন, আমি এঘটনায় কিছু জানিনা।তার কেন যে অভিযোগে আমার নাম দিল তা জানিনা।  
 
বদরগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসক সানোয়ার হোসেন বলেন, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া তিনজনের শরীরে আঘাতে চিহ্ন রয়েছে। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। 
 
বদরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একে এম আতিকুর রহমান অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।"



 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Banglar Alo News Admin

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ