ঢাকা , বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ , ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আগামী ৫ অক্টোবর বিশ্বশিক্ষক দিবসে বর্তমান সরকারের কাছে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকগণের প্রত্যাশা।


আপডেট সময় : ২০২৫-০৯-১৭ ১৩:৩৯:৩৯
আগামী ৫ অক্টোবর বিশ্বশিক্ষক দিবসে বর্তমান সরকারের কাছে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকগণের প্রত্যাশা। আগামী ৫ অক্টোবর বিশ্বশিক্ষক দিবসে বর্তমান সরকারের কাছে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকগণের প্রত্যাশা।

মোঃ ওমর ফারুক।

দীর্ঘদিন ধরে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকগণ বিশেষ করে বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক। গণের বঞ্চনার ইতিহাস অত্যন্ত করুন! সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এর শিক্ষকগণের বঞ্চনার ইতিহাস ও কম নয়! তবে আপাতত সম্মানিত বেসরকারি শিক্ষকদের ২০% বাড়ী ভাড়া দেওয়ার যে অঙ্গীকার সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছিল সেটি বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি। এসকল শিক্ষকদের শতভাগ উৎসব ভাতাও দেওয়া উচিত বলে সরকারি বেসরকারি মাধ্যমিকের শিক্ষকগণ মনে করি। 


এদিকে,
১৯৭৩ সালের পর থেকে অদ্যাবধি সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের প্রবেশপদ টির কোনো আপগ্রেডেশন করা হয়নি! এই শিক্ষকগণের সমগ্রেডের এবং পারস্পরিক বদলি যোগ্য পদ পিটিআই ইন্সট্রাক্টর পদটি অনেক আগেই নবম গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছে। শুধু তাই নয় সমগ্রেডভুক্ত আর ও পাঁচ থেকে ছয়টি পদের আপগ্রেডেশন করে নবম গ্ৰেডে উন্নীত করা হয়েছে। যেমন: সাব রেজিস্টার, থানা শিক্ষা অফিসার, সমাজসেবা কর্মকর্তা, পুলিশ পরিদর্শক, থানা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ইত্যাদি পদসমূহের এন্ট্রিপদের উন্নয়ন ( নবম গ্রেডে) ঘটলেও স্বাধীনতার পর থেকে সর্বোচ্চ মেধাও যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে (স্নাতক সহ বিএড স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সহ বি এড এবং স্নাতকোত্তর সহ বি এড এমনকি এই নেট এমফিল এবং পিএইচডি ডিগ্রিধারী হয়েও) সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকগণ এ পেশায় আন্তরিকতার সাথে সেবা প্রদান করে আসছেন কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে এই শিক্ষকগণকে দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে একই গ্রেড ভুক্ত করে রাখা হয়েছে (দশম গ্রেড)। সাম্প্রতিক সময়ে পিএসসির মাধ্যমে এবং বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সরকারি মাধ্যমিকের আগত তরুন প্রজন্মের মেধাবী শিক্ষকগণ তাদের পেশাগত উন্নয়নের লক্ষ্যে এন্ট্রি পদ নবম গ্রেড ধরে একটি ার স্তরীয় একাডেমিক পদসোপান বাস্তবায়নের  দাবিতে নিয়ম তান্ত্রিক ও ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন করে আসছেন। এরই মধ্যে তারা মানববন্ধন এবং সংবাদ সম্মেলন করেও এই দাবির পক্ষে যুক্তি সহ বৈষম্যের জায়গাগুলো যৌক্তিকভাবে তুলে ধরেছেন। তাছাড়া ঐতিহাসিক কারণেও সরকারি মাধ্যমিকের প্রবেশ পদটিকে নবম গ্রেড এ উন্নীত করা সময়ের অনিবার্য দাবিতে পরিণত হয়েছে। সুতরাং আমরা সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের এন্ট্রি পদটিকে নবম গ্রেডে উন্নীত করে একটি চার স্তরীয় একাডেমিক পদসোপান বাস্তবায়ন করতে বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা নোবেল বিজয়ী ডঃ মুহাম্মদ ইউনূস মহোদয়ের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি।


অন্যদিকে 
এনটিআরসি এর মাধ্যমে বেসরকারি এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয় সমূহে যে সকল তরুণ মেধাবী শিক্ষকদের রিক্রুট করা হচ্ছে তাদেরও সামাজিক মর্যাদা এবং আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এই সেক্টরে মেধাবীদের ধরে রাখতে হলে মাধ্যমিকের সহকারী শিক্ষকের প্রবেশপদ টিকে নবম গ্রেডভুক্ত করার কোনো বিকল্প নেই। 


আর তাই 
আগামী ০৫ অক্টোবর ২০২৫ বিশ্ব শিক্ষক দিবসে মাধ্যমিকের এন্ট্রি পদকে নবম গ্রেড এ উন্নীত করার ঘোষণা দিয়ে বর্তমান সরকার শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা ও ন্যায্যতা ঘোষণা করবেন বলে আশা রাখছি। মাধ্যমিক শিক্ষার সার্বিক উন্নয়ন এবং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে মাধ্যমিকের জন্য একটি আলাদা অধিদপ্তর আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারির জোর দাবি জানাচ্ছি।


উল্লেখ্য, মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর আলাদা হলে বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সমূহ জাতীয়করণ প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছি। অন্যথায় গত ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা অনুযায়ী ০৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ৬৪ জেলায় একযোগে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করে পরবর্তী বৃহত্তর কর্মসূচি হিসেবে ঢাকায় মহাসমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হবে -ইনশাআল্লাহ।

লেখক 
সহকারী শিক্ষক 
সরকারি করোনেশন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় 

মূখপাত্র, স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটি। 
(সমন্বয়ক, বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি, কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটি, ঢাকা)


নিউজটি আপডেট করেছেন : Banglar Alo News Admin

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ